লালমনিরহাট প্রতিনিধি / : 104
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের দক্ষিণ গোপাল রায় গ্রামে মায়ের দায়ের করা মামলায় স্কুলশিক্ষক বাবাকে আসামী করার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ছেলে মোস্তাকিম বিল্লাহ লাবীব। রোববার (৯ ডিসেম্বর) বিকেলে নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন—তার বাবা সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হয়েছে, সেগুলো সাজানো এবং পারিবারিক বিরোধের জের ধরে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে।
মোস্তাকিম বিল্লাহ লাবীব বলেন, তার মা লাভলী বেগম, যিনি দুই সন্তানের জননী এবং পাশের গ্রামের মৃত আফসার আলীর কন্যা—বাবার সঙ্গে নানাবিষয়ে বনিবনা করতে পারতেন না। তিনি প্রায়ই তুচ্ছ ঘটনায় কাউকে কিছু না জানিয়ে নানার বাড়িতে চলে যেতেন। বোনের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় বেশিরভাগ সময়ই বাবা-ছেলেকে রান্না থেকে শুরু করে যাবতীয় কাজ করতে হতো। তার দাবি, মা বাড়িতে ইচ্ছেমতো চলাফেরা করতেন, বাবার কোনো কথাই শুনতেন না, এমনকি মসজিদের ইমাম বাবার পরামর্শও মানতেন না। প্রায়ই বাবার সঙ্গে তর্ক করতেন এবং মানসিক নির্যাতন করতেন।
মোস্তাকিম জানান, এসব বিষয় নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিশ-বৈঠক করা হলেও তার মাকে শান্ত করা যায়নি। একপর্যায়ে মা বাবাকে তালাক দিতে চাপ সৃষ্টি করেন। পরে কোনো উপায় না দেখে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বাবা তালাক দেন। এরপর থেকেই মা নানার বাড়িতে অবস্থান করছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তালাকের পর মা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে বাবার নামে নির্যাতনের সাজানো অভিযোগ তৈরি করেন এবং গোপনে আদালতে মামলা করেন। সেই মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলেও তার বাবা বিষয়টি জানতেন না। পরে স্কুলশিক্ষক সিরাজুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয় এবং তিনি সাত দিন জেলহাজতে থেকে জামিনে মুক্তি পান। এতে সমাজে তার বাবার সম্মানহানি হয়েছে বলেও জানান মোস্তাকিম।
সংবাদ সম্মেলনে মোস্তাকিম বলেন, “আমার বাবা নির্দোষ। মায়ের সাজানো অভিযোগে বাবাকে জড়ানো হয়েছে। মামলার কারণে পরিবারটি এখন সামাজিকভাবেও চাপে রয়েছে। আমরা চাই সত্য তদন্তের মাধ্যমে বাবাকে হয়রানি থেকে মুক্ত করা হোক।”
তিনি মায়ের দায়ের করা মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানান এবং বাবার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে হয়রানি বন্ধের আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে এলাকার কয়েকজন স্থানীয়ও উপস্থিত ছিলেন। তারা ঘটনাটি পারিবারিক কলহের অংশ বলে দাবি করেন। পরিবারের শান্তি ও স্বাভাবিক পরিবেশ ফেরাতে প্রশাসনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি বলেও তারা অভিমত প্রকাশ করেন।
আকাশজমিন / আরআর