ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬,  ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ২৬টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা ধ্বংস করেছে ইরান মাদারীপুরে জামায়াত নেতার ঘর-বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী একজন ৫টির বেশি অটোরিকশার মালিক হতে পারবেন না: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম মিরপুরে পুলিশের গাড়িতে আগুন, নেভাতে গিয়ে হামলার শিকার ফায়ার সার্ভিস রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ইন্ডিয়া জোটের দিল্লি পদযাত্রা, পাল্টা র‍্যালি বিজেপির ৭০০ ই-রিকশার মধ্যে ৫টির বৈধ নিবন্ধন পাবেন গোলাম পরওয়ার: প্রতিমন্ত্রী বন্ধ হওয়া তিন স্টেশন চালুর পর মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক সাভার ও গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ, অন্তত ৮০ কারখানায় ছুটি তাহসিফের সঙ্গে থাকা তরুণী দিশা গ্রেপ্তার শ্রমিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যান চলাচল স্বাভাবিক: ডিএমপি

সিডনির বন্দুকধারী ২৭ বছর আগে শিক্ষার্থী ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় যান


  • আপলোড সময় : সোমবার ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৪:৩০ পিএম

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির বন্ডাই সমুদ্রসৈকতে গতকাল রোববার সংঘটিত বন্দুক হামলার ঘটনাকে ‘শয়তানি ইহুদিবিদ্বেষের কাজ’ বলে আখ্যায়িত করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। হামলার পর থেকে সিডনিজুড়ে শোক, আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে।

সিডনি পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় জড়িত দুই ব্যক্তি হলেন সাজিদ আকরাম (৫০) ও তাঁর ছেলে নাভিদ আকরাম (২৪)। পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলেই সাজিদ আকরাম নিহত হন। তিনি বৈধভাবে ছয়টি আগ্নেয়াস্ত্রের মালিক ছিলেন এবং একটি বিনোদনমূলক বন্দুক ক্লাবের সদস্য হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন।

তদন্তে জানা গেছে, সাজিদ আকরাম প্রায় ২৭ বছর আগে ১৯৯৮ সালে শিক্ষার্থী ভিসায় অস্ট্রেলিয়ায় আসেন। পরবর্তী সময়ে ২০০১ সাল থেকে তিনি স্থায়ী ভিসায় দেশটিতে বসবাস করছিলেন। তাঁর ছেলে নাভিদ আকরাম জন্মসূত্রে অস্ট্রেলিয়ার নাগরিক। হামলার ঘটনায় গুরুতর আহত নাভিদ বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক জানিয়েছেন, নাভিদ আকরাম ২০১৯ সালের অক্টোবরে অস্ট্রেলিয়ান সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স অর্গানাইজেশনের (এএসআইও) নজরদারিতে ছিলেন। তবে সে সময় তাঁর বিরুদ্ধে কোনো তাৎক্ষণিক হুমকি বা সক্রিয় সন্ত্রাসী তৎপরতার প্রমাণ না পাওয়ায় তাঁকে আটক করা হয়নি। সাম্প্রতিক এই হামলার প্রেক্ষাপটে গোয়েন্দা সংস্থার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

হামলার পর প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং বলেন, অস্ট্রেলিয়ায় ঘৃণাভিত্তিক সহিংসতার কোনো স্থান নেই। তিনি জানান, এই ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে সরকার সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থান নেবে। আজ সোমবার বিকেলে তিনি জরুরি মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকেছেন। বৈঠকে বন্দুক আইন আরও কঠোর করার বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে লাইসেন্সপ্রাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্রের সংখ্যা সীমিত করা, নির্দিষ্ট সময় পরপর লাইসেন্স যাচাই এবং মানসিক ঝুঁকি মূল্যায়ন আরও কঠোর করা। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই হামলা অস্ট্রেলিয়ার বন্দুক নিয়ন্ত্রণ নীতিতে নতুন করে কঠোরতা আনতে বড় ভূমিকা রাখবে।

হামলার সময় সাহসিকতার সঙ্গে বন্দুকধারীর কাছ থেকে অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন আহমেদ আল আহমেদ নামে এক ব্যক্তি। প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ তাঁর এই সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, এই কাজ মানবিকতা ও নাগরিক দায়িত্ববোধের অনন্য দৃষ্টান্ত।

হামলায় নিহতদের স্মরণে বন্ডাই সমুদ্রসৈকতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। শোকাহত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন মানবাধিকার ও নাগরিক সংগঠন। নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, হামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে এবং ঘটনায় সংশ্লিষ্ট সব দিক খতিয়ে দেখা হবে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর