ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

২০২৫ সালে যুদ্ধে ইউক্রেনের ৫ লাখ সেনা নিহত: রাশিয়ার দাবি


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ১০:৫৯ এএম

২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত রুশ বাহিনীর সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইউক্রেন প্রায় ৫ লাখ সেনা হারিয়েছে বলে দাবি করেছে রাশিয়া। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, এই বিপুল ক্ষতি নিকট ভবিষ্যতে পূরণ করা ইউক্রেনের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।

রাশিয়ার কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রিয়ে বেলৌসোভ এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এ তথ্য তুলে ধরেন। রাষ্ট্রায়ত্ত সম্প্রচারমাধ্যম রাশিয়ান টেলিভিশন (আরটি) জানায়, বুধবার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বোর্ড মিটিং অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন উপস্থিত ছিলেন। ওই বৈঠকে বেলৌসোভ বলেন, ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত রুশ বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে প্রায় ৫ লাখ ইউক্রেনীয় সেনা নিহত হয়েছে।

বেলৌসোভ আরও বলেন, এত বড় মাত্রার প্রাণহানির কারণে ইউক্রেনের পক্ষে স্বল্পমেয়াদে সেনাবাহিনী পুনর্গঠন করা কঠিন হবে। তার দাবি, ব্যাপক এই ক্ষতির ফলে ইউক্রেনের বেসামরিক জনগণের মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে সেনাবাহিনীতে যোগদানের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। ফলে সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখা কিয়েভের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে।

রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, সেনা ক্ষতির পাশাপাশি চলতি বছরে ইউক্রেন বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জামও হারিয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইউক্রেন এক লাখ তিন হাজারের বেশি সমরাস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম হারিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ৫ হাজার ৫০০ ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান, যেগুলো পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে সহায়তা হিসেবে পেয়েছিল ইউক্রেন।

উল্লেখ্য, ক্রিমিয়া উপদ্বীপকে রুশ ভূখণ্ড হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দেওয়া এবং ন্যাটোর সদস্যপদের জন্য কিয়েভের ধারাবাহিক তদবিরের জেরে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে কয়েক বছর ধরে উত্তেজনা চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২২ সালে ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করে রুশ বাহিনী।

যুদ্ধ শুরুর পরপরই ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি একটি ডিক্রি জারি করেন। ওই ডিক্রিতে ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী পুরুষদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। একই সঙ্গে সেনাবাহিনীতে জনবল সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয় কিয়েভ।

যুদ্ধের শুরুর দিকে ইউক্রেনে বেসামরিকদের জন্য সেনাবাহিনীতে যোগদানের ন্যূনতম বয়স ছিল ২৭ বছর। পরে পরিস্থিতির অবনতি হলে গত বছর তা কমিয়ে ২৫ বছর করা হয়। তবে এরপরও সেনা সংগ্রহে কাঙ্ক্ষিত সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

এদিকে সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলক যোগদানের ক্ষেত্রে জোর-জবরদস্তির অভিযোগে গত এক বছরে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে সাধারণ জনগণ ও সেনা সমাবেশ কর্মকর্তাদের মধ্যে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে। এসব ঘটনায় সামাজিক অস্থিরতা আরও বেড়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রিয়ে বেলৌসোভের এই বক্তব্যের বিষয়ে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

সূত্র: আরটি

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর