ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬,  ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ২৬টি মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনা ধ্বংস করেছে ইরান মাদারীপুরে জামায়াত নেতার ঘর-বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী একজন ৫টির বেশি অটোরিকশার মালিক হতে পারবেন না: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম মিরপুরে পুলিশের গাড়িতে আগুন, নেভাতে গিয়ে হামলার শিকার ফায়ার সার্ভিস রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে ইন্ডিয়া জোটের দিল্লি পদযাত্রা, পাল্টা র‍্যালি বিজেপির ৭০০ ই-রিকশার মধ্যে ৫টির বৈধ নিবন্ধন পাবেন গোলাম পরওয়ার: প্রতিমন্ত্রী বন্ধ হওয়া তিন স্টেশন চালুর পর মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক সাভার ও গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ, অন্তত ৮০ কারখানায় ছুটি তাহসিফের সঙ্গে থাকা তরুণী দিশা গ্রেপ্তার শ্রমিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যান চলাচল স্বাভাবিক: ডিএমপি

দিল্লিতে হাইকমিশনে হামলা: ভারতের ব্যাখ্যা মানছে না ঢাকা


  • আপলোড সময় : রবিবার ২১ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ৬:৩৫ পিএম

দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনে উগ্র ভারতীয়দের হামলার ঘটনায় ভারতের ব্যাখ্যা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। একই সঙ্গে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও সামনে এনেছে সরকার।

রোববার (২১ ডিসেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, ভারতীয় প্রেস নোটে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা বাংলাদেশ সরকার সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছে। কারণ, বিষয়টিকে যেভাবে সহজভাবে তুলে ধরা হয়েছে, বাস্তবতা মোটেও তেমন নয়।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের মিশনটি কূটনৈতিক এলাকার ভেতরে অবস্থিত। এটি কোনো উন্মুক্ত জায়গা বা কূটনৈতিক এলাকার বাইরের অংশ নয়। সেখানে ২০–২৫ জন বা তারও বেশি সংখ্যক একটি চরমপন্থি গোষ্ঠী কীভাবে প্রবেশ করল, সেটাই বড় প্রশ্ন। তিনি বলেন, একটি সুরক্ষিত এলাকায় এভাবে প্রবেশ করা সম্ভব হওয়ার অর্থ হলো—তাদের কোনো না কোনোভাবে ঢুকতে দেওয়া হয়েছে, যা গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও বলেন, হামলাকারীরা কেবল কোনো হত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে ফিরে যায়নি। তারা নানা ধরনের উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছে। এ ঘটনাকে হালকাভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, হাইকমিশনের ভেতরে হাইকমিশনার ও তার পরিবার বসবাস করেন। এ ঘটনায় তারা আতঙ্কিত হয়েছেন এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে হুমকি অনুভব করেছেন।

রিয়াজ হামিদুল্লাকে হত্যার হুমকি দেওয়ার বিষয়ে প্রমাণ নেই উল্লেখ করে তৌহিদ হোসেন বলেন, সরকার এ ধরনের হুমকির কথা শুনেছে। প্রশ্ন হচ্ছে—কীভাবে তারা সেখানে এসে এমন হুমকি দিতে পারল। তিনি বলেন, সে সময় সেখানে মাত্র দুজন নিরাপত্তা কর্মী ছিলেন এবং তারা নীরব ভূমিকা পালন করেছেন। অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যা সংশ্লিষ্ট দেশের দায়িত্বের ঘাটতির দিকেই ইঙ্গিত করে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা স্বাগতিক দেশের দায়িত্ব। এই ঘটনায় সেই নিয়ম যথাযথভাবে মানা হয়নি বলে বাংলাদেশ মনে করে। ভারত কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা সব মিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে—বাংলাদেশ সেই বক্তব্য নোট করেছে।

তিনি বলেন, হাইকমিশনে হামলা নিয়ে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে যে তথ্য প্রকাশিত হয়েছে, তা মোটামুটি সঠিক। এসব প্রতিবেদনকে ভুল বা বিভ্রান্তিকর বলা ঠিক নয়।

ময়মনসিংহে দীপু চন্দ্র দাস হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে তৌহিদ হোসেন বলেন, একজন বাংলাদেশি নাগরিক নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন। এ ঘটনাকে সংখ্যালঘু নিরাপত্তার সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার কোনো যুক্তি নেই। নিহত ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক এবং এ ঘটনায় সরকার দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধ শুধু বাংলাদেশে নয়, এই অঞ্চলের অন্যান্য দেশেও ঘটে এবং প্রতিটি দেশের দায়িত্ব হলো যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া। বাংলাদেশ সেটাই করছে।

ঢাকা কীভাবে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানাবে বা ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় দূতকে তলব করা হবে কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিবাদের ফরম্যাট নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা করা সমীচীন নয়। ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় বার্তা আদান-প্রদান হচ্ছে।

ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপড়েন বাড়লে দিল্লিতে বাংলাদেশের মিশন ছোট করা হবে কি না—এমন প্রশ্নে তৌহিদ হোসেন বলেন, যদি পরিস্থিতি সে দিকে যায়, তাহলে সরকার তা বিবেচনা করবে। তবে এখনো বাংলাদেশ আশা করছে, ভারত যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেবে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর