বিএনপির দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় দলের সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাসহ ৮ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃতদের মধ্যে জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং কেন্দ্রীয় বিভিন্ন স্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা-কর্মীরাও রয়েছেন।
মঙ্গলবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তাদের বহিষ্কারের তথ্য জানান। তিনি বলেন, দলীয় নিয়ম এবং সিদ্ধান্ত অমান্য করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনৈতিক অঙ্গনে সংহতি বজায় রাখার জন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহ আলম, হাসান মামুন, আব্দুল খালেক, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব তরুণ দে, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম নীরব, সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মামুনুর রশিদ (চাকসু মামুন) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ মেহেদী হাসান পলাশকে প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বৃহৎ রাজনৈতিক দলের জন্য শৃঙ্খলা ও নীতি অনুসরণের গুরুত্বের উপর গুরুত্বারোপ করে দলীয় নেতৃত্ব জানিয়েছে, সিদ্ধান্ত অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দলীয় শৃঙ্খলা ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অবাধ বিচ্যুতি মেনে নেওয়া হবে না।
এই বহিষ্কারের ফলে দলের অভ্যন্তরীণ কাঠামো ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে সতর্কতা বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর স্থায়িত্ব ও ঐক্য রক্ষায় নিয়ম ও নীতি মানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দলীয় নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিলে অন্যদের জন্যও সতর্কবার্তা সৃষ্টি হয়।
রাজনীতির অভিজ্ঞ নেতারা মনে করছেন, জাতীয় নির্বাচনের সময় দলের সিদ্ধান্ত মেনে চলা এবং শৃঙ্খলা রক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা শুধু অভ্যন্তরীণ নিয়মের প্রয়োগ নয়, বরং সমগ্র দলের ভাবমূর্তির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বহিষ্কৃত নেতাদের পদত্যাগের মাধ্যমে বিএনপি শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ থাকার সংকল্প প্রকাশ করেছে।
এ ঘটনায় দলের সাধারণ কর্মী এবং সমর্থকদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই মনে করছেন, শৃঙ্খলা বজায় রাখা দলের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থে অপরিহার্য। দলের অভ্যন্তরীণ ঐক্য রক্ষা এবং সিদ্ধান্ত মেনে চলা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক কার্যক্রমকে শক্তিশালী করবে।
আকাশজমিন
/ আরআর