ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী

সৌদি জেল থেকে মুক্ত প্রবাসী, বিমানবন্দরে অনিশ্চিত অপেক্ষা


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ১০:৫৬ পিএম

বিদেশের মাটিতে রোজগারের স্বপ্ন বুকে নিয়ে যে মানুষগুলো দেশ ছেড়ে যায়, তাদের জীবনের গল্প সব সময় সুখের হয় না। কারও স্বপ্ন পূরণ হয়, আবার কারও জীবন পরিণত হয় দীর্ঘ কষ্ট আর অনিশ্চয়তার গল্পে। সৌদি আরবের জেল থেকে মুক্ত হয়ে এক প্রবাসীর এমনই করুণ বাস্তবতা সামনে এসেছে, যা নাড়া দিয়েছে অনেকের বিবেককে।

জেল থেকে মুক্তি পেলেও তার দুর্ভোগ শেষ হয়নি। দেশে ফেরার টিকিট থাকলেও বাড়ি পৌঁছানোর মতো ন্যূনতম অর্থ তার হাতে নেই। ফলে বিমানবন্দরের এক কোণে বসেই কাটছে সময়। চোখেমুখে স্পষ্ট ক্লান্তি, দেহভঙ্গিতে অসহায়ত্ব আর মনে জমে থাকা দীর্ঘ দিনের যন্ত্রণা। ঠান্ডা মেঝেই এখন তার অস্থায়ী ঠিকানা, ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো নিশ্চয়তা নেই।

এই দৃশ্য কেবল একজন মানুষের নয়, এটি হাজারো প্রবাসীর নীরব আর্তনাদ। জীবনের সোনালি সময়, শ্রম আর ঘাম বিদেশের মাটিতে ঢেলে দিয়ে অনেকেই শেষ পর্যন্ত ফিরে আসেন শূন্য হাতে। কেউ প্রতারণার শিকার হন, কেউ আইনি জটিলতায় পড়েন, আবার কেউ দীর্ঘদিন কাটান কারাগারের অন্ধকার কক্ষে। পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও বাস্তবতা অনেক সময় নির্মম হয়ে ওঠে।

প্রবাসজীবনে ভাষাগত সমস্যা, আইনি সহায়তার অভাব, দালালচক্রের ফাঁদ এবং কর্মস্থলে নির্যাতন—সব মিলিয়ে অনেকেই পড়েন চরম বিপদে। দীর্ঘদিন বন্দিজীবন কাটিয়ে দেশে ফেরার সুযোগ মিললেও অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা নতুন করে দুর্ভোগ বাড়িয়ে তোলে। বিমানবন্দরে বসে থাকা সেই মানুষটির চোখে আজ শুধু একটাই আকুতি—কখন সে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারবে।

এই ঘটনাটি সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্যও এক বড় প্রশ্ন। প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও সংকটে পড়লে অনেক সময় তারা একা হয়ে যান। যথাযথ সহায়তা ও পুনর্বাসনের অভাবে তাদের কষ্ট আরও গভীর হয়। বিশেষ করে জেল থেকে মুক্ত প্রবাসীদের জন্য তাৎক্ষণিক সহযোগিতা না থাকলে মানবিক বিপর্যয় আরও বাড়তে পারে।

এই অসহায় মানুষটির দিকে তাকালে হৃদয় থেকে উঠে আসে একটাই দোয়া—হে আল্লাহ, প্রত্যেকটা প্রবাসীকে তুমি সম্মান ও স্বয়ংসম্পূর্ণতার সঙ্গে দেশে ফেরার তৌফিক দাও। যেন কেউ আর বিমানবন্দরের মেঝেতে বসে অসহায়ভাবে অপেক্ষা না করে। যেন প্রত্যেক প্রবাসীর ফেরা হয় মাথা উঁচু করে, পরিবারের বুকে নিরাপদ আশ্রয়ে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর