ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইয়েমেনে আমিরাতের অস্ত্র পাঠানোর অভিযোগে সৌদির বিমান হামলা


  • আপলোড সময় : বুধবার ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ সময় : ১০:৫৫ এএম

ইয়েমেনে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে অস্ত্র পাঠানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশটির বন্দরনগরী মুকাল্লায় বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) চালানো এই হামলার পর রিয়াদ সতর্ক করে জানিয়েছে, ইয়েমেনে আমিরাতের এমন কর্মকাণ্ডকে তারা ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ হিসেবে দেখছে। এই ঘটনায় ইয়েমেন সংকটে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের দাবি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফুজাইরাহ বন্দর থেকে দুটি জাহাজ ইয়েমেনের মুকাল্লা বন্দরে পৌঁছে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের (এসটিসি) জন্য বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও সামরিক যান খালাস করে। সৌদি আরবের অভিযোগ, এসব অস্ত্র সরবরাহ ইয়েমেনে চলমান শান্তি প্রচেষ্টার জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করেছে।

সৌদির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থার প্রকাশিত এক সামরিক বিবৃতিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট জাহাজগুলোর ক্রু ট্র্যাকিং ডিভাইস নিষ্ক্রিয় করে গোপনে অস্ত্র নামিয়েছে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এসব অস্ত্রকে ‘শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য আসন্ন হুমকি’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। এ কারণেই সীমিত আকারে বিমান হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই বিমান হামলায় হতাহতের কোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে হামলার পর ইয়েমেনে সৌদি আরব ও আমিরাত–সমর্থিত শক্তিগুলোর মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। বিশেষ করে ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলে প্রভাব বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলমান টানাপোড়েন নতুন মাত্রা পেয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে আমিরাত–সমর্থিত এসটিসি ইয়েমেনের হাদরামাউত প্রদেশে অগ্রসর হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। সৌদি আরব–সমর্থিত কিছু গোষ্ঠী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইয়েমেন থেকে আমিরাতি বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানালেও এসটিসি ও তাদের মিত্ররা আমিরাতের উপস্থিতির পক্ষে অবস্থান নেয়। এতে করে দুই মিত্র দেশের মধ্যকার সম্পর্কেও প্রকাশ্য টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

এই প্রেক্ষাপটে সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রথমে সৌদি আরবের অভিযোগ অস্বীকার করে সংযম ও প্রজ্ঞার আহ্বান জানায়। তবে পরবর্তী সময়ে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষণা দেয়, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও এর সম্ভাব্য পরিণতি বিবেচনায় ইয়েমেনে থাকা অবশিষ্ট সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যদিও সেনা প্রত্যাহারের নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি। এর আগেও কয়েক বছর আগে ইয়েমেন থেকে বড় পরিসরে সেনা প্রত্যাহার করেছিল আমিরাত।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের যুদ্ধে নতুন একটি ফ্রন্ট খুলে দিতে পারে। ইয়েমেন–বিশেষজ্ঞ ও ‘বাশা রিপোর্ট’-এর প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আল-বাশা বলেন, উভয় পক্ষই নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় উত্তেজনা বাড়াতে পারে। তবে সৌদি আরব আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণ করায় আমিরাত থেকে এসটিসির কাছে অস্ত্র সরবরাহ বাস্তবে সীমিত হয়ে পড়তে পারে।

সাম্প্রতিক এই সংকট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত উভয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন। কূটনৈতিক মহলে এটিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে প্রথমবারের মতো এসটিসির সাম্প্রতিক অগ্রগতির জন্য সরাসরি আমিরাতকে দায়ী করে জানায়, ‘ভ্রাতৃপ্রতিম সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেওয়া পদক্ষেপগুলো অত্যন্ত বিপজ্জনক।’ অন্যদিকে, এসটিসির মিত্ররা স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, তারা পিছু হটার কোনো সম্ভাবনা দেখছে না।

সূত্র: এপি


এ সম্পর্কিত আরো খবর