পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ ডিসেম্বর সুরমা নদীতে অভিযান চালিয়ে একটি নৌকাসহ ৩১টি গরু আটক করা হয়। মামলার বিচারিক কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী গরুগুলোর পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পুলিশকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এসব গরু থানায় বা কোনো ফাঁড়িতে রাখার পরিবর্তে নদীতে ভাসমান অবস্থায় রাখা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানায়, দীর্ঘদিন নদীতে ভাসমান থাকার কারণে তীব্র শীতে অন্তত ছয়টি গরু মারা গেছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, মৃত গরুর সংখ্যা নয় থেকে দশটিরও বেশি। অভিযোগ রয়েছে, রাতের অন্ধকারে মৃত গরুগুলো নদীতে ফেলে দেওয়া হচ্ছে এবং গরুগুলোর প্রকৃত অবস্থা দেখতে গেলে স্থানীয়দের বাধা দেওয়া হয়।
গরুগুলো দেখভালের জন্য একজন স্থানীয় যুবক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ওই যুবকের বকেয়া পাওনা পাঁচ হাজার টাকার বেশি। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তিনি নিজের পকেট থেকে টাকা খরচ করে গরুর খাবার কিনছেন বলেও জানা গেছে। খাবারের পরিমাণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ৩১টি গরুর জন্য দৈনিক মাত্র ১০ কেজি ভুসি দেওয়া হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানায়। ওসি রতন শেখ বলেন, “আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত গরুগুলো নদীতেই থাকবে। এখন যদি গরু মারা যায়, আমরা কিছুই করতে পারব না।”
অপরদিকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) রাকিবুল হাসান রাসেল বলেন, “ওসি যদি বলেন গরু চুরি হয়ে যাবে, তা গ্রহণযোগ্য কারণ নয়। গরুগুলোর মৃত্যুর ঘটনা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
আকাশজমিন / আরআর