ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

জমা ৪৪ কোটি টাকা

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকে দুই দিনে উত্তোলন ১০৭ কোটি টাকা


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৫ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৮:১৬ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক চালু হওয়ার প্রথম দুই দিনে বড় ধরনের গ্রাহক চাপ তৈরি হয়নি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। তিনি বলেন, এই দুই দিনে ব্যাংক থেকে মোট ১০৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকা উত্তোলন হয়েছে, যেখানে নতুন আমানত এসেছে ৪৪ কোটি টাকা, যা গ্রাহকদের আস্থার প্রমাণ।

সোমবার (৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি গভর্নর হাবিবুর রহমান, নির্বাহী পরিচালক নুরুন নাহার, রফিকুল ইসলাম, আরিফ হোসেন খান এবং সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান আইয়ুব ভুঁইয়া।

গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, সাধারণত নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘ সময় লাগে, কিন্তু সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে মাত্র দুই মাসের মধ্যে এলওআই, ক্যাপিটালাইজেশন, সাইনবোর্ড স্থাপন ও লেনদেন শুরু করা সম্ভব হয়েছে। ব্যাংক রেজুলেশন অর্ডিন্যান্সের আওতায় ধাপে ধাপে এসব কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

তিনি জানান, ইতোমধ্যে রেজুলেশন স্কিম জারি করা হয়েছে এবং আমানতকারীদের সঙ্গে লেনদেন চলছে। নতুন বোর্ড গঠনের কাজ চলছে, যেখানে সরকারি প্রতিনিধিরা প্রাথমিক বোর্ডে আছেন। শিগগিরই চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, ব্যাংকার ও আইন বিশেষজ্ঞসহ পূর্ণাঙ্গ বোর্ড গঠিত হবে।

দুই দিনের লেনদেনের পরিসংখ্যান তুলে ধরে গভর্নর জানালেন, ১ ও ৪ জানুয়ারি মোট ১৩ হাজার ৩১৪টি উত্তোলন হয়েছে। এক্সিম ব্যাংক থেকে ৬ হাজার ২৬৫ জন গ্রাহক ৬৬ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন, যা সর্বোচ্চ। অন্যদিকে নতুন জমা পড়েছে ৪৪ কোটি টাকা, ফলে নেট পরিস্থিতি সন্তোষজনক।

গভর্নর আরও বলেন, সামনে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে—একটি সমন্বিত আইটি সিস্টেম চালু করা, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের আইটি টিম পরিচালনা করছে; অন্যটি হলো পাঁচটি ব্যাংকের অতীত অনিয়ম খতিয়ে দেখার জন্য ফরেনসিক অডিট। দক্ষ ও সৎ কর্মকর্তারা নিরাপদ ও স্বচ্ছ পরিবেশে কাজ করতে পারবেন, এ বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পাঁচ ব্যাংকের দুরবস্থার সঙ্গে জড়িত ব্যাংক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জড়িত থাকলে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

ফরেনসিক রিপোর্ট পাওয়া গেলে জানা যাবে টাকা কোথায় গিয়েছে এবং কারা এর সুবিধাভোগী। তিনি বলেন, কাউকে ছাঁটাই করতে চাওয়া হচ্ছে না, তবে অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত থাকলে ছাড় দেওয়া হবে না।

মুনাফার হার নিয়ে গভর্নর জানান, শরিয়াহভিত্তিক মুনাফা বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যমান ও নতুন পণ্য একত্রিত করে নতুন শরিয়াহসম্মত প্রোডাক্ট চালু করা হবে এবং বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে আগামী ১৯ জানুয়ারি।

আকাশজমিন / আরআর  


এ সম্পর্কিত আরো খবর