ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬,  ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
১৩ সিটি করপোরেশনে ই-রিকশার নিবন্ধন শুরু সোমবার: মীর শাহে আলম দিল্লিতে আজ ইন্ডিয়া জোটের মেগা সমাবেশ, জমায়েত হতে পারে লাখো মানুষ ট্রাম্পের হুমকির মুখে সেনা কমান্ডারদের বড় নির্দেশ মোজতবা খামেনির তৈরি পোশাকশ্রমিকদের নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করল সরকার টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেডে রণক্ষেত্র মিরপুর, চরম উত্তেজনা ধানখেতে মিললো অজ্ঞাতনামা নারী-পুরুষের অর্ধগলিত মরদেহ জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে জার্মানিতে জেন জি’র তীব্র বিক্ষোভ কালিয়াকৈরে মহাসড়ক অবরোধ করে শ্রমিক বিক্ষোভ দ্বিতীয় দিনের মতো মিরপুরে সড়ক অবরোধ, বন্ধ যান চলাচল সাইবার হামলার শিকার ডিএমপি নিউজ, ওয়েবসাইটে আপত্তিকর বার্তা

ইথিওপিয়ায় ট্রাক দুর্ঘটনায় ২২ অভিবাসনপ্রত্যাশী নিহত


  • আপলোড সময় : বুধবার ০৭ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৫:১৪ পিএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইথিওপিয়ায় একটি কার্গো ট্রাক উল্টে যাওয়ার ঘটনায় ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী নিহত এবং আরও ৬৫ জন আহত হয়েছেন। নিহত ও আহতরা সকলেই ইথিওপিয়ার নাগরিক। এই দুর্ঘটনা মঙ্গলবার দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় আফার প্রদেশের সিমেরা শহরে ঘটে।

আফার পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ও আহতরা চোরাই পথে অবৈধভাবে প্রতিবেশী দেশ জিবুতির উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। দুর্ঘটনার স্থান জিবুতির সীমান্ত থেকে কয়েকশ’ কিলোমিটার দূরে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করা বার্তায় আফার পুলিশের জনসংযোগ বিভাগ জানায়, “ট্রাকটিতে শতাধিক নাগরিক ছিলেন। স্থানীয় মানবপাচারকারীদের প্রলোভনে বিভ্রান্ত হয়েছিলেন তারা এবং ভ্রমণ রুটের বিপদ সম্পর্কে কোনো পূর্ব ধারণা ছিল না।”

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। আহতদের নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং প্রাদেশিক সরকার তাদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে। নিহতদের পরিবারদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করা হয়েছে।

সোমালিয়া, ইথিওপিয়া, ইরিত্রিয়া এবং জিবুতি—এই চার দেশকে একত্রে ‘হর্ন অব আফ্রিকা’ বলা হয়। ইথিওপিয়া ও ইরিত্রিয়া স্থলবেষ্টিত দেশ, কিন্তু সোমালিয়া ও জিবুতি সমুদ্রপথে সংযুক্ত। জিবুতির লোহিত সাগরের উপকূল থেকে ইয়েমেন বা সৌদি আরবের দিকে অভিবাসন সম্ভব।

মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোতে ইথিওপিয়ার অভিবাসনপ্রত্যাশীরা পৌঁছাতে প্রথমে জিবুতিতে যান। এরপর লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে ইয়েমেনে পৌঁছান, এবং সেখান থেকে সৌদি আরব ও অন্যান্য দেশগুলোতে রওনা হন।

তবে এই রুট মানবপাচারকারীদের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক। জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম) জানায়, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই রুটে ৮৯০ জনের মৃত্যু ঘটেছে। এই রুটকে বিশ্বের সবচেয়ে ‘বিপদসঙ্কুল রুট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অত্যন্ত ঝুঁকি সত্ত্বেও অভিবাসনপ্রত্যাশী ও মানবপাচারকারীদের কাছে এই রুটের জনপ্রিয়তা কমছে না। আইওএম-এর তথ্য অনুযায়ী, এই পথ বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত অভিবাসন রুট হিসেবে বিবেচিত। অভিবাসনপ্রত্যাশীরা দ্রুত অন্য দেশে পৌঁছানোর আশায় বিপজ্জনক রুট ব্যবহার করতে বাধ্য হন।

আফার পুলিশ এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, আহতদের চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সহানুভূতি জানানো হচ্ছে। উদ্ধার তৎপরতায় প্রাদেশিক প্রশাসনের পাশাপাশি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর নজরদারি রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই দুর্ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছে। তারা মানবপাচার এবং বিপজ্জনক অভিবাসন রুট বন্ধ করার জন্য আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে।

এই দুর্ঘটনা আবারও ইথিওপিয়ায় চোরাই অভিবাসনের ঝুঁকি এবং মানবপাচারের ভয়াবহ প্রভাবের প্রমাণ হিসেবে সামনে এসেছে। সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আরও এ ধরনের প্রাণহানির ঘটনা এড়ানো যায়।

সূত্র: আলজাজিরা


 


এ সম্পর্কিত আরো খবর