ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহত ২০০০


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৬:৪৭ পিএম

ইরানে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অন্তত দুই হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। দেশটির সরকারি এক কর্মকর্তার দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই তথ্য প্রকাশ পায়, যা ইরানি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এত বড় সংখ্যক নিহতের খবর প্রথমবারের মতো স্বীকৃতি। বিক্ষোভ শুরু হয় গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে, যখন অর্থনৈতিক সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ এবং দারিদ্র্যের কারণে দুর্ভোগ বেড়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে তেহরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ-প্রতিবাদ শুরু হয়। দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী ও বেসামরিক নাগরিক উভয়ের মধ্যেই হতাহত হয়েছে বলে জানা গেছে, যদিও সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান দেয়া হয়নি।

সরকারি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, এই বিক্ষোভের মধ্যে থাকা "সন্ত্রাসীরা" নিহতদের জন্য দায়ী। ইরানের ধর্মীয় শাসকগোষ্ঠী অভিযোগ করে থাকে যে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য উসকানি দিচ্ছে এবং বিক্ষোভকে ভিন্নখাতে নিয়ে যেতে চায়।

গত তিন বছরে ইরান অভ্যন্তরীণভাবে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সংকটের মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে অর্থনৈতিক অবনতি ও আন্তর্জাতিক চাপ দেশের জনজীবনকে অচল করে তুলেছে। গত বছরের ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ওপর হামলার প্রেক্ষাপটেও দেশটির ওপর চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে।

ইরানের সরকার বিক্ষোভকে ‘ন্যায্য’ স্বীকার করলেও, একই সাথে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে বিক্ষোভ দমনে। নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি বর্ষণ এবং কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে, যার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। পাশাপাশি, ইন্টারনেট পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে, এমনকি স্টারলিঙ্ক ইন্টারনেট সার্ভিসকে সামরিক গ্রেডের জ্যামার দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে শত শত নিহত ও হাজার হাজার গ্রেপ্তারের তথ্য প্রকাশ করেছে। বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে এবং এ সংঘর্ষে ব্যাপক সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

এই বিক্ষোভ ইরানের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটের বহিঃপ্রকাশ। ইরানের সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে উত্তেজনা তীব্রতর হচ্ছে, যার প্রভাব দেশটির অভ্যন্তর ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও অনুভূত হচ্ছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর