ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,  ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা, আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয় মামলা ফ্যাসিস্টরা স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান সফরে নতুন ৪টি সমঝোতা স্মারক সই পাশাপাশি চার কবরে চিরনিদ্রায় একই পরিবারের চার সদস্য স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত ৮০ ঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ১৮৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬

টিয়াখালী কলেজ ভবনে খনিজ অনুসন্ধান সামগ্রী, পাঠদান বন্ধ


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৪:১৪ পিএম

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

বরগুনার আমতলী উপজেলার টিয়াখালী কলেজ ভবনে চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন কোম্পানীর খনিজ সম্পদ অনুসন্ধান সামগ্রী রাখায় কলেজের পাঠদান ব্যহত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ খালেদ মোশাররফ সোহেল প্রভাব খাটিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরীর নির্দেশ অমান্য করে কোম্পানী কর্তৃপক্ষকে কলেজ ভবন ব্যবহার করতে দিয়েছেন। এতে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন বাপেক্সের কাছ থেকে খনিজ সম্পদ অনুসন্ধানের জন্য চুক্তি করে। ওই চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে ২০২৭ সালের জুন মাসে। চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের শুরুতে কোম্পানী কর্তৃপক্ষ আমতলী উপজেলায় খনিজ সম্পদ সার্ভের কাজ শুরু করে। বর্তমানে এই কাজে প্রায় ৩৫০ জন কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিক নিয়োজিত রয়েছেন।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী কোম্পানীর লোকজনকে টিয়াখালী কলেজ প্রাঙ্গণে তাবু খাটিয়ে অস্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি দেন। তবে অভিযোগ উঠেছে, কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ খালেদ মোশাররফ সোহেল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশ অমান্য করে কলেজ ভবনের দুটি কক্ষ কোম্পানীর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ব্যবহার করতে দেন। তারা ওই ভবনে অনুসন্ধান সামগ্রী সংরক্ষণ ও বসবাস শুরু করেন।

এদিকে কোম্পানীর লোকজন কলেজ প্রাঙ্গণের খোলা পায়খানা ব্যবহার করায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। এতে কলেজ ও আশপাশের এলাকার পরিবেশ মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে শিক্ষার্থীরা কলেজে আসা বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে গত আট দিন ধরে কলেজে পাঠদান পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কলেজ ক্যাম্পাসে কোনো শিক্ষার্থী বা শিক্ষক উপস্থিত নেই। কলেজের চারতলা ভবনের নিচতলা ও চতুর্থ তলায় চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের অনুসন্ধান সামগ্রী বোঝাই করে রাখা হয়েছে। কোম্পানীর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভবনের বিভিন্ন অংশ দখলে রেখে সেখানে বসবাস করছেন। ফলে স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম চালানো সম্ভব হচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, কলেজ ভবনের ভেতরে কোম্পানীর মালামাল রাখা এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের কারণে গত আট দিন ধরে পাঠদান বন্ধ রয়েছে। তারা দ্রুত কলেজ ভবন খালি করে শিক্ষাকার্যক্রম চালুর দাবি জানান।

চায়না ন্যাশনাল পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের ক্যাম্প ইনচার্জ মোঃ আরজ আলী বলেন, “আমি পাঁচ দিন আগে এখানে এসেছি। তবে শুনেছি উপজেলা নির্বাহী অফিসার কলেজ প্রাঙ্গণে তাবু সাটিয়ে থাকার অনুমতি দিয়েছেন।”

এ বিষয়ে টিয়াখালী কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ খালেদ মোশাররফ সোহেলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “নিউজ করতে চান নিউজ করেন দেখি তাতে আমার কি হয়?” এ কথা বলেই তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, “চায়না পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন কোম্পানীর লোকজনকে কলেজের বাহিরে তাবু সাটিয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কলেজের ভবন ব্যবহার করার কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। কলেজের পাঠদান বন্ধ করে কোনো কিছুই করা যাবে না।” তিনি আরও বলেন, বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর