রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি) কেন্দ্রে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষের ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে পকেট রাউটার ও মোবাইল ফোনসহ এক পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে এ ঘটনা ঘটে।
আটক পরীক্ষার্থীর নাম জিএম সারোয়ার আহমেদ। তিনি কারমাইকেল কলেজ থেকে ২০২৪ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তাঁর পিতা শামীম আহমেদ এবং মাতা আইরিন আক্তার। তারা রংপুরের বাসিন্দা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল ১১টায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এ’ ইউনিটের প্রথম শিফটের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়। পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সকাল সাড়ে ৯টা থেকেই পরীক্ষার্থীরা বেরোবি কেন্দ্রে প্রবেশ করতে থাকেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছিল। তল্লাশিকালে জিএম সারোয়ার আহমেদের কাছে একটি পকেট রাউটার ও একটি মোবাইল ফোন পাওয়া যায়। পরে সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে আটক করা হয় এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।
এ বিষয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. রাশেদ খান বলেন, ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে কেন্দ্রে প্রবেশের সময় একজন পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে রাউটার ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর অভিভাবকদের খবর দেওয়া হয়েছে। তারা উপস্থিত হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. ফেরদৌস রহমান জানান, পরীক্ষার গেটে মেটাল ডিটেক্টরে ধরা পড়ার পর তল্লাশি করে দেখা যায়, পরীক্ষার্থী বগলের নিচে জ্যাকেটের তলে এবং পকেটে মোবাইল ফোন ও পকেট রাউটার লুকিয়ে রেখেছিলেন। তাঁর অনলাইনে উত্তর দেখার উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটরা দেখছেন এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পরে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় বিভাগীয় শহরগুলোতে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বেরোবি কেন্দ্রে অত্যন্ত সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের উপস্থিতির হার ছিল প্রায় ৯৫ শতাংশ।
ডিভাইসসহ পরীক্ষার্থী আটকের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, অযাচিত ডিভাইস নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশের সময় একজন পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে আমরা আইনের আশ্রয় নেব। তিনি আরও জানান, পরীক্ষার হলে একজন পরীক্ষার্থী হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়লে তাঁকে দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে অতিরিক্ত সময় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আব্দুর রহিম সাগর বেরোবি কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, বেরোবি কেন্দ্রে পরীক্ষার পরিবেশ অত্যন্ত সুন্দর ও সুশৃঙ্খল ছিল। সুষ্ঠু আয়োজনের জন্য বেরোবি কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ। ডিভাইসসহ পরীক্ষার্থী আটকের বিষয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও পুলিশ প্রশাসন আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবে।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সি’ ইউনিট এবং শনিবার (১৭ জানুয়ারি) ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়।