প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ২৩২ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙে ইতিহাস গড়ল পাকিস্তান টিভি (পিটিভি)। প্রেসিডেন্টস ট্রফিতে মাত্র ৪০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে তারা সুই নর্দার্নকে পরাজিত করেছে। করাচির ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ম্যাচে শেষ পর্যন্ত সুই নর্দার্ন গুটিয়ে যায় মাত্র ৩৭ রানে।
এর আগে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সর্বনিম্ন লক্ষ্য রক্ষার রেকর্ড ছিল ১৭৯৪ সালের। সে সময়ে ওল্ডফিল্ড দল মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের (এমসিসি) বিপক্ষে ৪১ রান রক্ষা করে ৬ রানে জয় পায়। প্রায় আড়াই শতাব্দী পর পাকিস্তান টিভি সেই রেকর্ড ভেঙেছে।
ম্যাচ শেষে পিটিভির প্রধান কোচ মোহাম্মদ ওয়াসিম বলেন, ‘এই বিশ্বরেকর্ড গড়া পারফরম্যান্সে আমি দারুণ খুশি। আমাদের দলের মূলমন্ত্র হলো কখনো হাল না দেয়া এবং শেষ বল পর্যন্ত লড়াই করা। আমরা এই টুর্নামেন্টে তিনটি ম্যাচেই পিছিয়ে থেকেও ইতিবাচক মানসিকতায় জয় পেয়েছি।’
ম্যাচের শুরুতে সুই নর্দার্ন ছিল দৃঢ় অবস্থানে। প্রথম ইনিংসে তারা সংগ্রহ করে ২৩৮ রান। জবাবে পাকিস্তান টিভি অলআউট হয় ১৬৬ রানে, ফলে সুই নর্দার্ন ৭২ রানের বড় লিড পায়।
দ্বিতীয় ইনিংসে পাকিস্তান টিভি মাত্র ১১১ রানেই থামে। সহজ জয় মনে হচ্ছিল সুই নর্দার্নের জন্য। কিন্তু নাটকীয় মোড় নিল ম্যাচ। মাত্র ৪০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে সুই নর্দার্ন একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে।
পাকিস্তান টিভির বোলার আলি উসমান দুর্দান্ত বোলিং করেন। মাত্র ৯ রান খরচ করে তিনি তুলে নেন ৬ উইকেট। তাকে দারুণভাবে সহায়তা করেন আমাদ বাট, যিনি ২৮ রান খরচ করে ৪ উইকেট শিকার করেন। শেষ পর্যন্ত সুই নর্দার্ন থামে মাত্র ৩৭ রানে, ফলে পাকিস্তান টিভি নিশ্চিত করে লক্ষ্য রক্ষা এবং জয়ের ইতিহাস।
এই জয়ে পাকিস্তান টিভি শুধু ম্যাচ জেতেনি, বরং ক্রিকেট ইতিহাসে একটি বিরল অর্জনও করেছে। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এত কম রানের লক্ষ্য রক্ষা করা এবং প্রতিপক্ষকে অলআউট করা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। এই জয় দলের আত্মবিশ্বাস এবং সমন্বয়ময় ক্রিকেটের প্রতিফলন।
মোহাম্মদ ওয়াসিম বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল ছোট হলেও আমরা প্রতিটি বলের সঙ্গে লড়াই করেছি। বোলিং আক্রমণ এবং মাঠে সমন্বয়ই এই জয় নিশ্চিত করেছে। খেলোয়াড়রা মানসিকভাবে দৃঢ় ছিলেন এবং দলের জন্য আত্মত্যাগ করেছেন।’
পিটিভির পারফরম্যান্স প্রমাণ করে যে মানসিক দৃঢ়তা এবং সঠিক কৌশল দ্বারা যে কোনো কঠিন লক্ষ্যও অর্জন করা সম্ভব। ম্যাচের শুরুতে যে পরিস্থিতি ছিল, সেটি থেকে পিছিয়ে থেকে জিততে পারাটা দলের সমন্বয়, বোলারদের দক্ষতা এবং অধিনায়কের পরিকল্পনার ফল।
এই রেকর্ড গড়া জয় পাকিস্তান ক্রিকেটের ইতিহাসে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। একই সঙ্গে এটি ক্রিকেট বিশ্লেষক ও ফ্যানদের কাছে একটি স্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে থাকবে। প্রেসিডেন্টস ট্রফির এই ম্যাচ ভবিষ্যতের প্রতিযোগিতায় দলের মনোবল এবং খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়াবে।
আকাশজমিন / আরআর