সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করে হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে চেম্বার আদালতে আবেদন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আবেদনে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ স্থগিত চাওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে এ আবেদন করা হয়। সংশ্লিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. সাদ্দাম হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, যথাসময়ে এই আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে এবং আদালত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবেন।
এর আগে সোমবার দুপুরে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেন হাইকোর্ট। আগামীকাল মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) শাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।
বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতের আদেশে শাকসু নির্বাচন ঘিরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তৈরি হওয়া প্রস্তুতি ও শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা আপাতত থমকে যায়।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম ও ব্যারিস্টার মনিরুজ্জামান আসাদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসাইন লিপু। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. সাদ্দাম হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।
শুনানি শেষে ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম বলেন, নির্বাচন কমিশন শাকসু নির্বাচনের যে অনুমোদন দিয়েছিলেন, তা হাইকোর্ট চার সপ্তাহের জন্য স্থগিত করেছেন। এর ফলে নির্ধারিত সময়ে শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না। চার সপ্তাহ পর যেকোনো দিন শাকসু নির্বাচন হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এর আগে গতকাল শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। শাকসু নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মমিনুর রশিদ শুভসহ তিন শিক্ষার্থী হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন। রিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিবাদী করা হয়।
রিট আবেদনে বলা হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন দেশের সব ধরনের নির্বাচন বন্ধ রাখার নির্দেশনা জারি করেছে। সেই নির্দেশনা বহাল থাকা অবস্থায় শাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া আইনসংগত নয়।
এদিকে শাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের প্রচারণার সময়সীমা সম্প্রতি ১২ ঘণ্টা বাড়ানো হয়েছিল। শাকসুর প্রধান নির্বাচন কমিশনার আবুল মুকিত মোহাম্মদ মোকাদ্দেছ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন দেশের সব নির্বাচনের ওপর স্থগিতাদেশ দেওয়ায় শাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের প্রচারণায় বিঘ্ন ঘটে। পরে ১৫ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন শাকসু নির্বাচন ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠানের অনুমতি দেয়।
প্রার্থীদের প্রচারণার সুবিধার্থে শাকসু নির্বাচনের প্রচারণার শেষ সময় ১৮ জানুয়ারি রাত ৯টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়। নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, ভোট গ্রহণের ৪৮ ঘণ্টা আগে প্রচারণা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কয়েকজন প্রার্থীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সময় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।