অনলাইন রিপোর্টার
গতকাল সন্ধ্যা থেকেই বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল অস্ট্রেলিয়াতে যাচ্ছেন এমন গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল। রাতভর ক্রিকেটাঙ্গনও সরগরম ছিল, একাংশ নিশ্চিত করেছিলেন বুলবুল দেশের বাইরে চলে গেছেন। তবে বিসিবির একাধিক পরিচালক নিশ্চিত করেছেন, তিনি দেশে রয়েছেন।
গতকালই বুলবুল নিজেই জানিয়েছেন, “আমি দেশে আছি, কোথাও যাচ্ছি না। কোনো পরিকল্পনা নেই।” এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি গুজবকে উড়িয়ে দিয়েছেন।
এরপর আজ (সোমবার) সকাল এগারোটা নাগাদ তিনি সরাসরি বিসিবি কার্যালয়ে হাজির হন। শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের চারপাশে পায়চারি করতে দেখা গেছে তাকে। পরে তিনি নিয়মিত অফিসিয়াল কাজেও যোগ দেন।
বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কঠিন সময় পার করছেন বুলবুল। নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ তার আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ নিতে অস্বীকার করে। আইসিসি বাংলাদেশের দাবিকে মেনে না নিয়ে স্কটল্যান্ডকে বাংলাদেশ দলের জায়গায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এই সিদ্ধান্তের প্রভাব দলের আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণে পড়েছে।
এই পরিস্থিতির মধ্যে বিসিবির অভ্যন্তরে অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে তুলেছে পরিচালক পর্যায়ে বিভিন্ন ঘটনা। এক পরিচালক ফিক্সিং জড়িত থাকার অভিযোগের কারণে অডিট কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন। আরেক পরিচালক ইশতিয়াক সাদেকও পদত্যাগ করেছেন। বোর্ডের টালমাটাল পরিস্থিতিতে তারেক দেশের বাইরে যাচ্ছেন এমন গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
বুলবুলের এমন সময়কার উপস্থিতি বোর্ডের স্থিতিশীলতা ও দায়িত্ববোধকে প্রমাণ করে। তিনি জানিয়েছিলেন, বিসিবি পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও নিয়মাবলী রক্ষা করা তার প্রাথমিক লক্ষ্য। দেশের ক্রিকেটাঙ্গনের নীতিমালা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো তার মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু।
এর আগে বুলবুল দেশের ক্রিকেট ব্যবস্থার বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে সরাসরি বক্তব্য রেখেছেন। তিনি বলেছেন, “ক্রিকেট প্রশাসনকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করতে হবে। কোনো ধরনের গুজব বা অস্থিরতা বোর্ডের কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।”
শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের পরিবেশে তার উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে, দেশের ক্রিকেট প্রশাসন এখনও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে বুলবুলের দেশীয়ভাবে সরাসরি অংশগ্রহণ বোর্ডের সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এই অবস্থায় ক্রিকেটপ্রেমীরা নিরাপদে এবং স্বচ্ছভাবে খেলা আয়োজন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চালানোর আশ্বাস পাচ্ছেন। বোর্ডের সকল গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখন দায়িত্বশীল ও সক্রিয় নেতৃত্বের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।
বুলবুলের সকাল সকাল উপস্থিতি শুধু দেশের ক্রিকেটাঙ্গনের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করছে না, গুজব ও অস্থিরতা মোকাবেলায়ও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পাঠিয়েছে। এর মাধ্যমে বোর্ডের কর্মকর্তারা এবং খেলোয়াড়রা আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে মাঠে এবং প্রশাসনিক কাজে নিযুক্ত হতে পারছেন।
এছাড়া, তার উপস্থিতি নিশ্চিত করেছে যে, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল এবং সুসংগঠিত। দেশের ক্রিকেটের মানোন্নয়নে এবং খেলোয়াড়দের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বুলবুলের উপস্থিতি বোর্ড পরিচালকদের মধ্যে উত্সাহ এবং দায়িত্ববোধ বাড়িয়ে দিয়েছে। দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের ওপর তার সরাসরি তত্ত্বাবধান গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পরিস্থিতি স্পষ্ট যে, দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে গুজব এবং চাপের মধ্যে সরাসরি নেতৃত্ব প্রদানের মাধ্যমে বিসিবি সভাপতি দায়িত্বশীল এবং সচেতন ভূমিকা পালন করছেন।