ময়মনসিংহের শিল্পাঞ্চলখ্যাত ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) সংসদীয় আসনে নির্বাচনি প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি প্রার্থী ফখরুদ্দিন আহম্মেদ বাচ্চুর সমর্থকদের সঙ্গে দল থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের ফলে উপজেলা বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুর ও দুটি স্থানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।
রোববার সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে উপজেলার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেলে কাচিনা ইউনিয়নে নির্বাচনি প্রচারণার সময় বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমের এবং ধানের শীষের প্রার্থী ফখরুদ্দিন আহম্মেদ বাচ্চুর সমর্থকদের মধ্যে বাকবিতাণ্ডা শুরু হয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমের সমর্থকরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত বাচ্চুর দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর এবং অন্তত পাঁচজন আহত করে।
এর জবাবে বাচ্চুর সমর্থকরা নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমের ব্যক্তিগত কার্যালয় এবং তার সমর্থক পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব আদি খান শাকিলের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর এবং আগুন ধরিয়ে দেয়। সংঘর্ষ চলে রাত পৌনে ৯টা পর্যন্ত থেমে থেমে।
দুই পক্ষের এই সংঘর্ষে জেলা যুবদলের নেতা মিল্টনসহ ধানের শীষের পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয় সংবাদকর্মীরা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি থাকলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
ময়মনসিংহ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা পোস্টকে বলেন, “নির্বাচনি প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা থেমে থেমে চলছে। এতে কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং একাধিক স্থানে অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া গেছে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে, বিস্তারিত পরে জানানো হবে।” দুই পক্ষের প্রধান দুই প্রার্থীর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আকাশজমিন / আরআর