অনলাইন রিপোর্টার
চলতি বছরের শুরুতেই দেশের বাজারে মুঠোফোনের দাম বেড়েছে। কোম্পানি ও মডেলভেদে প্রতিটি মুঠোফোনের দাম ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। তবে সরকারের শুল্ক ছাড়ের কারণে দাম কমার সম্ভাবনা থাকলেও বাস্তবে গ্রাহকরা তা পুরোপুরি পাচ্ছেন না। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে কিছুটা সমন্বয় হতে পারে।
দেশে ‘অফিশিয়াল’ ও ‘আনঅফিশিয়াল’—এই দুই ধরনের মুঠোফোন বিক্রি হয়। কম দামের কারণে বৈধ প্রক্রিয়ায় না আনা ফোনের চাহিদা বেশি ছিল। আনঅফিশিয়াল ব্যবসায়ীরা প্রথমে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) চালুর বিরোধিতা করেন এবং পরে সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন চালান। সরকারের বাধ্যবাধকতায় এনইআইআর কার্যকর করার সময়সূচি দুই দফায় পিছিয়ে যায়।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মুঠোফোন আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করেছে। মুঠোফোন সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানের উপকরণ আমদানিতেও শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের আশা, এর ফলে দাম কমতে পারে। তবে বাস্তবে দাম কমার মানে মূলত সম্প্রতি বেড়ে যাওয়া দামের ওপর থেকে কিছুটা কমানো।
শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী জানান, বৈশ্বিক বাজারে চিপসেট এবং মেমোরির দাম বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশেও মুঠোফোনের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ৪ জিবি র্যাম ও ৬৪ জিবি রমের শাওমি রেডমি এ৫ ফোনের দাম জানুয়ারিতে ২ হাজার টাকা বেড়েছে, ৮ জিবি র্যাম ও ২৫৬ জিবি রমের রেডমি নোট ১৪ প্রো ৪জি মডেলের দাম বেড়েছে ৫ হাজার টাকা।
এ বিষয়ে মোবাইল ফোন ইন্ডাস্ট্রি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এমআইওবি) সদস্য সাইফুদ্দিন টিপু বলেন, দেশে সংযোজিত ফোনের ওপর শুল্ক কমলেও প্রভাব খুব সীমিত, মাত্র শূন্য দশমিক ৭৫ থেকে শূন্য দশমিক ৮৬ শতাংশ। তিনি বলেন, বৈধভাবে আমদানি করলে দাম কমতে পারে, আশা করা যায় চলতি মাসের শেষের দিকে বাজারে সমন্বয় হবে।
মহিউদ্দিন আহমেদ, সভাপতি, মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন বলেন, সরকার শুল্ক কমালে ব্যবসায়ীরাই সুযোগ নেয়। ফলে গ্রাহকরা শুল্ক ছাড়ের প্রকৃত সুফল পাচ্ছেন না।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা ও বিডিজবসের প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম মাশরুর মনে করেন, শুল্ক আরও কমানো প্রয়োজন। এনইআইআর চালু থাকলেও গ্রে মার্কেট উঠে গেলে বৈধ প্রতিযোগিতা কমে যাবে এবং ভোক্তার উপকার হবে না।
বর্তমানে মুঠোফোনের দাম শুল্ক ছাড়ের পরেও বাজারের অবস্থার ওপর নির্ভর করছে। ব্যবসায়ীরা মূলত সম্প্রতি বেড়ে যাওয়া দামের ওপর থেকে দাম সামান্য কমাবেন। ফলে ভোক্তাদের জন্য শুল্ক ছাড়ের প্রকৃত সুফল এখনও দেখা যায়নি।
আকাশজমিন / আরআর