ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

শেরপুরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহত


শেরপুরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহত

  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৯:৪১ এএম

শেরপুরের শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ইশতেহার ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সংঘর্ষে গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম (৪২)। এই ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেছে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ মাঠে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে ইশতেহার পাঠের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা মঞ্চে অবস্থান নেন। এ সময় চেয়ার বসানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন নেতা-কর্মীর মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তা সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ায় রূপ নেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হঠাৎ করেই উভয় পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে পুরো অনুষ্ঠানস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। লাঠিসোঁটা নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও শেরপুর জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় মাওলানা রেজাউল করিমকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত আনুমানিক ১০টার দিকে তিনি মারা যান।

নিহত মাওলানা রেজাউল করিম শ্রীবরদী উপজেলার গড়জরিপা ইউনিয়নের চাউলিয়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি মাওলানা আব্দুল আজিজের ছেলে এবং শ্রীবরদী উপজেলার ফতেহপুর ফাজিল মাদ্রাসার আরবি বিভাগের প্রভাষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার মৃত্যুর খবরে পরিবার, সহকর্মী ও দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।

এ ঘটনায় জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল অভিযোগ করে বলেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকেরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে জামায়াতের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তিনি এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন এবং দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিচার না হলে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

অন্যদিকে ঘটনার পরপরই প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মিজানুর রহমান ভূঁঞা জানান, জামায়াত নেতার মৃত্যুর বিষয়টি পুলিশ নিশ্চিত করেছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে এবং পরবর্তী আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ঘটনার পর থেকে ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর