শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় জামায়াত ও বিএনপির সংঘর্ষে জামায়াত নেতা মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হওয়ার ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় ২৩৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঘটনার দুই দিন পর গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে নিহত রেজাউল করিমের স্ত্রী মার্জিয়া বেগম ঝিনাইগাতী থানায় মামলাটি দায়ের করেন। নিহত রেজাউল করিম শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত বুধবার বিকেলে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনে একটি নির্বাচনী ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষ চলাকালে উভয় পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও মারধরের ঘটনা ঘটে।
এই সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিমকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর মৃত্যু হয়।
জেলা জামায়াতের আমির হাফিজুর রহমান অভিযোগ করেন, রেজাউল করিমকে ইট দিয়ে থেঁতলে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং এর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, নিহতের স্ত্রী মার্জিয়া বেগম তাঁর স্বামীর হত্যার জন্য বিএনপি ও তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের দায়ী করেছেন। মামলায় যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে।
শেরপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (নালিতাবাড়ী সার্কেল) আফসান আল আলম বলেন, তদন্তের স্বার্থে আপাতত আসামিদের নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না। তিনি জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে এবং গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। তবে সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনী কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছিল। সংঘর্ষের ঘটনার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলার তদন্ত শেষে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।