ক্রীড়া ডেস্ক
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দল অংশ না নেওয়ায় এই সময়টাকে কাজে লাগিয়ে নতুন প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে বিসিবি। আজ বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে তিন দলীয় এই সংক্ষিপ্ত সংস্করণের টুর্নামেন্ট। দেশের প্রতিভাবান ও তরুণ ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স যাচাইয়ের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই প্রতিযোগিতাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে ক্রিকেট বোর্ড।
এই টুর্নামেন্টে সবচেয়ে কমবয়সী ক্রিকেটারদের নিয়ে গঠিত দল হলো ইমার্জিং স্কোয়াডের দুরন্ত একাদশ। সদ্য অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলে ফেরা ক্রিকেটারদের বড় একটি অংশ এই দলে সুযোগ পেয়েছে। দলটির কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সর্বশেষ বিপিএলজয়ী কোচ হান্নান সরকার। তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে কাজ করার চ্যালেঞ্জ এবং সম্ভাবনা—দুটিকেই ইতিবাচকভাবে দেখছেন তিনি।
গতকাল বুধবার গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে হান্নান সরকার বলেন, তার কাছে মনে হচ্ছে এই টুর্নামেন্টে ভালো প্রতিযোগিতা হবে। তিনটি দলের শক্তির ভারসাম্য ধাপে ধাপে সাজানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। হান্নানের ভাষায়, বয়সভিত্তিক দল থেকে উঠে আসা ক্রিকেটারদের জন্য এখানে ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। তিনি বলেন, দুরন্ত একাদশে ক্ষুধার্ত খেলোয়াড়ের সংখ্যা বেশি, যারা নিজেদের প্রমাণ করার জন্য মরিয়া। এই ক্ষুধাই দলটির বড় শক্তি হতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
নতুন ও তরুণ ক্রিকেটারদের নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে হান্নান সরকার বলেন, তিনি আগে সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গেও কাজ করেছেন এবং বিপিএলেও জাতীয় দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। তবে বোর্ড যেখানে দায়িত্ব দেয়, সেখানেই কাজ করাটাই তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তরুণ খেলোয়াড়দের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা হিসেবে তিনি আগে নির্বাচক হিসেবে তাদের অনেককে কাছ থেকে দেখেছেন বলেও জানান। এতে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও জেলিংটা সহজ হয় বলে মনে করেন তিনি।
হান্নান আরও বলেন, কোচিং ক্যারিয়ারে তিনি সব সময় ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ উপভোগ করেন। দল নিয়ে তিনি চিন্তিত নন, বরং যে দলই হাতে পান, সেটিকে কীভাবে পারফর্ম করানো যায়—সেই চ্যালেঞ্জটাই তাকে অনুপ্রাণিত করে। এই মানসিকতা নিয়েই তিনি দুরন্ত একাদশকে সামনে এগিয়ে নিতে চান।
সম্প্রতি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলে দেশে ফেরা আজিজুল হাকিম তামিম, জাওয়াদ আবরার এবং ইকবাল হোসেন ইমন এই টুর্নামেন্টে দুরন্ত একাদশের হয়ে খেলছেন। এই তিন তরুণ ক্রিকেটারকে নিয়ে হান্নান সরকার বলেন, তাদের জন্য এটি বড় একটি প্ল্যাটফর্ম। যুব বিশ্বকাপের পাশাপাশি বিপিএলে খেলার অভিজ্ঞতা থাকায় তারা এই পর্যায়ে মানিয়ে নেওয়ার সামর্থ্য রাখে বলে তিনি মনে করেন।
হান্নানের মতে, অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে দলগতভাবে প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল না এলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে ইতিবাচক দিক দেখানোর সুযোগ রয়েছে এই টুর্নামেন্টে। এখানে ভালো করতে পারলে তামিম, জাওয়াদ ও ইমনের মতো ক্রিকেটারদের সামর্থ্য আরও স্পষ্টভাবে উঠে আসবে। এই প্রতিযোগিতাই হতে পারে তাদের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে যাওয়ার বড় মঞ্চ।
সব মিলিয়ে তিন দলীয় এই টুর্নামেন্ট তরুণ ক্রিকেটারদের জন্য নিজেদের প্রমাণের পাশাপাশি জাতীয় ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আকাশজমিন / আরআর