ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  সোমবার, ২৭ Jul ২০২৬,  ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রপ্তানি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ১৫ শতাংশ, আয় হতে পারে ৬৩.৪ বিলিয়ন ডলার রাজধানীতে ১৮ মন্ত্রী চলবেন এসকর্ট ছাড়া, বহাল থাকছে ৭ জনের সুবিধা সাতক্ষীরায় অপরিকল্পিত মৎস্য ঘের: পানিবন্দী হাজারও মানুষ, সড়ক-শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত সাতক্ষীরার তিন হাসপাতালে হঠাৎ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, অনুপস্থিত দুই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট দল ঘোষণা, নেই নাহিদ-লিটন সেনা কর্মকর্তাদের পদোন্নতি হোক মেধা ও যোগ্যতায়: প্রধানমন্ত্রী হামের উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১১৬০ জামায়াত জোট ছাড়ার গুঞ্জন নাকচ করল নেজামে ইসলাম চলনবিলে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়নাদুয়ারী জাল লক্ষ্মীপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে ধারণ হলো ‘ইত্যাদি’র বিশেষ পর্ব

এমন বিশ্বকাপ বাংলাদেশ আগে কখনো দেখেনি


  • আপলোড সময় : শনিবার ০৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ১০:৩৫ এএম

এমন বিশ্বকাপ কি আগে দেখেছেন আপনি? এমন বিশ্বকাপ—যে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নেই। প্রশ্নটা শুনতে অদ্ভুত লাগলেও বাস্তবতা এটাই। ক্রিকেটের বিশ্বকাপ মানেই যেখানে বাংলাদেশ ছিল এক অবিচ্ছেদ্য অংশ, সেখানে এবার সেই পরিচিত দৃশ্য নেই। টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর শুরু হচ্ছে, অথচ বাংলাদেশের নামটি সূচিতে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ বললেই বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার কথা কখনো কল্পনায় আসেনি। ২০০৭ সাল থেকে ২০২৪ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত আগের নয়টি টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপেই নিয়মিত অংশ নিয়েছে বাংলাদেশ। এবার কেন নেই—সে প্রশ্নের উত্তর জানতে ক্রিকেট বিশেষজ্ঞ হওয়ারও প্রয়োজন নেই। গত কিছুদিনে যে ঘটনাপ্রবাহ, তা কেবল মাঠের খেলার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। এতে মিশেছে রাজনীতি, কূটনীতি এবং ভূরাজনীতি। ক্রিকেট যে বহু আগেই শুধু ক্রিকেট নেই, এবারের বিশ্বকাপ সেটির সবচেয়ে বড় উদাহরণ।

বিশ্বকাপ শব্দটি শুনলেই ক্রিকেটের কথাই আগে আসে, যদিও অন্য খেলাতেও বিশ্বকাপ হয়। ক্রিকেটের বিশ্বকাপও একাধিক—৫০ ওভারের বিশ্বকাপ আছে, আছে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ। এই দুই ফরম্যাট মিলিয়ে বাংলাদেশকে ছাড়া বিশ্বকাপ দেখতে হলে ফিরে যেতে হয় প্রায় তিন দশক আগে, ১৯৯৬ সালে। ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে আয়োজিত সেই বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ছিল না।

সে বিশ্বকাপের স্মৃতি যাঁদের মনে আছে, তাঁদের বয়স আজ কমপক্ষে ৩৫–৩৬ বছরের কাছাকাছি। কারণ পাঁচ–ছয় বছরের কম বয়সের স্মৃতি সাধারণত মনে থাকে না। বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার বড় একটি অংশের বয়স ৩৫–এর নিচে। অর্থাৎ দেশের অধিকাংশ মানুষের কাছেই বাংলাদেশবিহীন বিশ্বকাপ একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা। সেই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে তারা আজ, টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসরের প্রথম দিনে।

আজ বেলা সাড়ে ১১টায় কলম্বোতে উদ্বোধনী ম্যাচে পাকিস্তান ও নেদারল্যান্ডস মুখোমুখি হবে। ওই ম্যাচ চলাকালেও কোনো না কোনোভাবে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ উঠে আসবে। কারণ বিশ্বকাপ ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, সেখানে পাকিস্তানও গভীরভাবে জড়িয়ে গেছে। ভারতে না খেলার দাবিতে বাংলাদেশকে সমর্থন দেওয়া তো আছেই, এর পাশাপাশি বাংলাদেশ বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর পাকিস্তান ঘোষণা দিয়েছে ক্রিকেটের সবচেয়ে লাভজনক ম্যাচ থেকেও সরে দাঁড়ানোর।

ভারত–পাকিস্তান ম্যাচকে বলা হয় ক্রিকেটের ‘সোনার ডিম পাড়া হাঁস’। এই ম্যাচ দিয়েই মহাদেশীয় ও বৈশ্বিক প্রায় সব বড় টুর্নামেন্টের আয়োজন শুরু হয়। ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে নির্ধারিত সেই ম্যাচ শেষ পর্যন্ত হবে কি না, নাকি ওয়াকওভার হবে—তা নিয়ে আলোচনা এখন মাঠের খেলার চেয়েও বেশি। আগামী এক সপ্তাহ এই প্রশ্নই ক্রিকেট বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত থাকবে।

উদ্বোধনী দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে বিকেল সাড়ে ৩টায় কলকাতার ইডেন গার্ডেনে খেলবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাদের প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড। এই ম্যাচ দেখেই সবার মনে পড়বে, স্কটল্যান্ডের জায়গায় আসলে মাঠে নামার কথা ছিল বাংলাদেশের। সেই স্মৃতি অন্য দেশের দর্শকদের জন্য এক মুহূর্তের হলেও বাংলাদেশের মানুষের জন্য তা গভীর বেদনার।

পেছনে ফিরে তাকালে মনে হয়, কত দিন আগের ঘটনা যেন মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত। অথচ সেই সিদ্ধান্তের খবর এসেছিল চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি। এরপর থেকেই শুরু হয় ঘটনাপ্রবাহের বিস্তার, যা বিশ্ব ক্রিকেটে এক ধরনের ভূমিকম্প তৈরি করে। খেলার আলোচনা পেছনে পড়ে যায়, সামনে চলে আসে রাজনীতি, নিরাপত্তা ও আর্থিক হিসাব–নিকাশ।

খেলার একটি অদ্ভুত শক্তি আছে। যত বিতর্কই থাকুক, যত কাদা ছোড়াছুড়িই হোক—একবার খেলা শুরু হয়ে গেলে সবকিছু আড়ালে চলে যায়, সামনে আসে শুধু খেলাই। কিন্তু এবারের বিশ্বকাপের আগে সেই চিত্র দেখা যাচ্ছে না। এই প্রথম কোনো টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর আগে সম্ভাব্য চ্যাম্পিয়ন, সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক বা সেরা বোলার নিয়ে আলোচনা তেমন জোরালো নয়।

টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের আগের নয়টি আসরে ছয়টি ভিন্ন দল শিরোপা জিতেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড ও ভারত—এই তিন দল দুবার করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। কাগজে–কলমে এবারের ফেবারিট হিসেবে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে ভারতের নাম। তবে ইতিহাস দুটি বিষয় মনে করিয়ে দেয়—টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত কোনো স্বাগতিক দল শিরোপা জেতেনি, আর কোনো দল টানা দুবার চ্যাম্পিয়ন হতে পারেনি।

আজ উদ্বোধনী দিনের শেষ ম্যাচে মুম্বাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে মাঠে নামবে ভারত। সেই ম্যাচে থাকবে নতুন ইতিহাস লেখার প্রচ্ছন্ন চ্যালেঞ্জ। কিন্তু বিশ্বকাপ যতই এগিয়ে যাক, বাংলাদেশের মানুষের কাছে এই টুর্নামেন্ট কখনোই পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে উঠবে না।

খেলা শুরু হলে হয়তো অনেক বিতর্ক চাপা পড়ে যাবে, মাঠের লড়াই আবার দর্শকের মনোযোগ কাড়বে। কিন্তু বাংলাদেশে এই বিশ্বকাপ কখনোই পুরোপুরি খেলায় ঢুকে পড়তে পারবে না। কারণ এমন বিশ্বকাপ—যে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ নেই—এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ আগে কখনো দেখেনি।

বাংলাদেশ নেই, অথচ বাংলাদেশ আছে—আলোচনায়, বিতর্কে, সমীকরণে, প্রশ্নে আর আক্ষেপে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর