অনলাইন রিপোর্টার
যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু ব্যবহার করে বাংলাদেশে তৈরি পোশাক রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্ক (রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ) ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৯ শতাংশ করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমান সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ সময় রাত ১০টার দিকে ওয়াশিংটনে নিজ নিজ দেশের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন ও মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএসটিআর) জেমিসন গ্রিয়ার।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। গত বছরের এপ্রিল থেকে প্রায় ৯ মাস ধরে চলা আলোচনার পর এ চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হলো।
নতুন চুক্তি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত তুলা ও কৃত্রিম তন্তু ব্যবহার করে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে রেসিপ্রোকাল শুল্ক সম্পূর্ণ শূন্য করা হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর বিদ্যমান শুল্ক কমিয়ে ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ রেসিপ্রোকাল শুল্ক আরোপিত ছিল।
বাণিজ্য উপদেষ্টা শুল্ক হ্রাসের বিষয়ে আগেই আশা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “আমরা চেষ্টা করছিলাম যে আরও কতটা কমানো যায়। আশা করছি ৯ ফেব্রুয়ারি যে চুক্তি হবে, তাতে শুল্ক হার কমবে। তবে এই মুহূর্তে কতটা কমবে, তা নির্ধারণ করা হয়নি।”
গত বছরের এপ্রিল মাসে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর একশটির বেশি দেশের ওপর বাড়তি বাণিজ্য শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন। বিশেষ করে যেসব দেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ঘাটতি বেশি, তারা এ সিদ্ধান্তের প্রধান লক্ষ্য ছিল। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে শুল্ক শুরুতে ৩৭ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছিল, পরে তা কমিয়ে ৩৫ শতাংশ করা হয়। এর আগে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর গড়ে ১৫ শতাংশ শুল্ক থাকায় মোট শুল্কের হার প্রায় ৫০ শতাংশে পৌঁছেছিল।
শুল্ক বৃদ্ধির ফলে তৈরি পোশাকসহ বাংলাদেশের রপ্তানিখাতের ওপর বড় চাপ তৈরি হয়েছিল। এ পরিস্থিতিতে শুল্ক হ্রাস ও বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে বাংলাদেশ। দীর্ঘ আলোচনার পর ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট থেকে বাড়তি শুল্ক কমিয়ে ২০ শতাংশে নামানো হয়। তবে এই ছাড়ের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য আমদানি বাড়িয়ে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর শর্ত রাখা হয়।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার, যার মধ্যে ৬০০ কোটি ডলার রপ্তানি পণ্য। বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে পাঁচ বছরে ৩৫ লাখ টন গম আমদানির চুক্তি করেছে। এছাড়া উড়োজাহাজ ও যন্ত্রাংশ, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), সয়াবিন তেল, ভুট্টা ও তুলাসহ বিভিন্ন পণ্যের আমদানিও চুক্তির অংশ।
নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি খাতে শুল্কমুক্ত সুবিধা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। এটি বাংলাদেশের রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ও কর্মসংস্থানের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের জন্য এটি একটি বড় সুবিধা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চুক্তি অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য বৃদ্ধির পাশাপাশি রপ্তানি খাতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, এ সুবিধার ফলে বাংলাদেশি পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা বেড়ে যাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানির পরিধি প্রসারিত হবে।
আকাশজমিন / আরআর