আবু দাউদ প্রধান বলেন, “ঘটনার ভিডিও আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নষ্ট এবং সামাজিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমি সেখানে শুধুমাত্র স্থানীয়দের সঙ্গে পরিস্থিতি সামলাতে গিয়েছিলাম।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, চাকলাহাট ইউনিয়ন পরিষদের তিনবারের সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে গ্রামে যাওয়ার পথে চাকলাহাট বাজারে জটলা লক্ষ্য করেন। স্থানীয়দের কাছ থেকে জানতে পারেন যে জামায়াতে ইসলামী দলের এক কর্মী একটি গুদামঘরের তালার চাবি দিচ্ছিলেন না। পরে তিনি নিজে চাবি নেন এবং তালা খোলা হয়। চাবিটি পরে বাজার বণিক সমিতির সভাপতির কাছে জমা রাখা হয়।
তিনি বলেন, “এ সময় আমি ঘরটি গুদামঘর হিসেবেই জানতাম। সেখানে কোনো চেয়ার, টেবিল বা রাজনৈতিক দলের সাইনবোর্ড ছিল না। ঘটনার সময় যারা উপস্থিত ছিলেন, তাদের বক্তব্য আমি পুরোপুরি বুঝতে পারিনি। পরে শুনেছি ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যেন মনে হয় আমি আওয়ামী লীগ কার্যালয় খুলে দিয়েছি।”
এর আগে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, চাকলাহাট ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বুলেট কার্যালয়ের সামনে বক্তব্য দিচ্ছেন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন আবু দাউদ প্রধান, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ও সাবেক ইউপি সদস্য আবুল হোসেন এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সাবেক নেতা আনিসুজ্জামান স্বপনসহ আরও অনেকে। ভিডিওতে দেখা যায়, উপস্থিতরা আবু দাউদ প্রধানকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছেন।
ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে নানা বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ভিডিওটি সামাজিকভাবে ভুল ব্যাখ্যার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতারা ঘটনাটি একটি সাধারণ প্রশাসনিক ও স্থানীয় সমাধানের অংশ হিসেবে দেখছেন।
পঞ্চগড়ের এই ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা থাকলেও, স্থানীয়দের ও সংশ্লিষ্ট দলের নেতাদের মধ্যে বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করা হয়েছে। আবু দাউদ প্রধান আরও জোর দিয়ে বলেন, “এটি কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নয়, বরং স্থানীয় মানুষের সহায়তায় গুদামঘরের তালা খোলার ঘটনা।”