ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী

কুড়িগ্রামে জয় বাংলা–জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান, পরবর্তীতে কার্যালয় ভাঙচুর


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ৭:০৪ পিএম

আনারুল ইসলাম রানা, কুড়িগ্রামঃ

কুড়িগ্রামে আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত দলীয় কার্যালয়ে ‘জয় বাংলা’ ও ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে ব্যানার ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে কার্যালয়টি ভাঙচুর করেছে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতা–কর্মীরা।

মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) ভোরে জেলা ছাত্রলীগের নেতা বাঁধন ও লুব্ধ-এর নেতৃত্বে ৬–৭ জনের একটি দল আকস্মিকভাবে ওই কার্যালয়ে প্রবেশ করে। তারা ব্যানার টাঙিয়ে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে এবং জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দেয়। কিছুক্ষণ পর তারা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

ঘটনার ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দুপুর ১২টার দিকে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক সভাপতি আব্দুল আজিজ নাহিদের নেতৃত্বে একদল যুবক আবার কার্যালয়ে প্রবেশ করে এবং ভাঙচুর চালায়। তারা বিভিন্ন আসবাবপত্র, সাইনবোর্ড ও ব্যানার ক্ষতিগ্রস্ত করে।

এ বিষয়ে আব্দুল আজিজ নাহিদ জানান, “কয়েক দিন আগে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল যে, প্রত্যেকটি আওয়ামী লীগ কার্যালয় পুনরায় খোলা হবে। তার অংশ হিসেবে আজ কুড়িগ্রামের কার্যালয়ে ব্যানার ও পতাকা টাঙানো হয়েছে। আমরা আগেও এটি ভেঙে দিয়েছি। কুড়িগ্রাম তো দূরের কথা, বাংলাদেশে কোথাও আওয়ামী লীগের কার্যালয় থাকবে না।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ প্রশাসন এ ঘটনায় নীরব ভূমিকা পালন করেছে।

“এত বড় ঘোষণা শোনার পরও তারা কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বিষয়টি আমরা এসপিকে বারবার জানিয়েছি, কিন্তু কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি,” যোগ করেন তিনি। উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় গত ৫ আগস্ট কুড়িগ্রাম শহরের শাপলা চত্বরে অবস্থিত আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছিল। এরপর থেকে কার্যালয়টি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। আজকের ঘটনায় সেই পরিত্যক্ত কার্যালয়ের অবস্থা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, এমন ঘটনার ফলে জনমনে অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে। রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে কার্যালয় ও আশেপাশের এলাকা সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। এ ঘটনায় কুড়িগ্রাম পুলিশ ও প্রশাসনের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা দ্রুত ব্যবস্থা নিলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব।

শহরের বিভিন্ন সংবাদপত্র ও সামাজিক মাধ্যমে এ ঘটনা তীব্র সমালোচনা করেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেন, রাজনৈতিক বৈষম্য ও পুরনো বিরোধের কারণে এ ধরনের সংঘাত বাড়ছে। তারা আশা করছেন, প্রশাসন ব্যবস্থা নিয়ে শান্তি ও আইন শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করবে।

আকাশজমিন / আরআর


এ সম্পর্কিত আরো খবর