বিনোদন ডেস্ক
বলিউড সুপারস্টার শাহরুখ খান সম্প্রতি হাসপাতালে যান, দেখতে সালমান খানের বাবা ও প্রখ্যাত চিত্রনাট্যকার সেলিম খানকে। সেলিম খান গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে মুম্বাইয়ের লীলাবতী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। হাসপাতালে গিয়ে শাহরুখ খান তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার সন্ধ্যায় ব্যক্তিগত গাড়িতে করে হাসপাতালে পৌঁছান শাহরুখ। সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সালমান খানও। তবে ভিড় এড়াতে শাহরুখের হাসপাতাল আগমনের বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল। এর আগে বলিউডের বিভিন্ন তারকা, যেমন আমির খান ও সঞ্জয় দত্তও সেলিম খানকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, সেলিম খান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মস্তিষ্কে সামান্য রক্তক্ষরণজনিত সমস্যার কারণে। দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করার পর তার একটি অস্ত্রোপচার করা হয়। বর্তমানে তিনি বিপদমুক্ত থাকলেও বার্ধক্যজনিত কারণে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছে। পুরোপুরি সুস্থ হতে তাকে কিছুদিনের বিশ্রাম ও পর্যবেক্ষণের প্রয়োজন হবে।
শাহরুখ ও সালমান খানের মধ্যকার তিন দশকের বন্ধুত্ব সুপরিচিত। তবে শাহরুখ শুধু সালমানের সঙ্গে নয়, পুরো পরিবারের সঙ্গেও গভীর সম্পর্ক রাখেন। ক্যারিয়ারের শুরুতে সেলিম খানের অবদানের কথা শাহরুখ বহুবার স্মরণ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, মুম্বাইয়ে আগমনের প্রথম দিনগুলোতে সেলিম খান তাঁকে অকৃত্রিমভাবে সহায়তা ও সমর্থন করেছিলেন।
সেলিম খানের সুস্থতার জন্য শাহরুখ খান হাসপাতালে আসার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিয়েছেন। হাসপাতাল সূত্র জানায়, শাহরুখের আগমনের সময় রোগীর অবস্থা মনিটর করা হয় এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চলতে থাকে। এ ধরনের আগমন রোগী ও পরিবারকে মানসিক সমর্থন দেয় এবং চিকিৎসা প্রক্রিয়ার জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
বলে রাখা ভালো, সেলিম খানের অবস্থা স্থিতিশীল থাকলেও এখনও আইসিইউতে পর্যবেক্ষণ চালানো হচ্ছে। চিকিৎসকরা আশাবাদী, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা চললে তিনি শিগগিরই সুস্থ হয়ে উঠবেন।
বলিউডের দুই সুপারস্টারের পারিবারিক বন্ধুত্ব এবং একে অপরের প্রতি সহমর্মিতা, তাঁদের ব্যক্তিগত সম্পর্কের গভীরতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দেয়। শাহরুখের এই আগমন শুধু বন্ধুত্বের উদাহরণ নয়, বরং বড়ো ব্যক্তিত্ব হিসেবে সম্মান ও মানবিকতার দৃষ্টান্ত।
এই হাসপাতালে আগমনের মাধ্যমে শাহরুখ খান ও সালমান খান একবার আরও প্রমাণ করেছেন যে, ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও পারিবারিক বন্ধনই কখনও বড়ো প্রতিকূলতার মধ্যেও অটুট থাকে।
আকাশজমিন / আরআর