ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
জাপানের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের উদাত্ত আহ্বান তারেক রহমানের বাউফলে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে কিন্ডারগার্টেন ও দুর্নীতির অভিযোগ ঠাকুরগাঁও উপনির্বাচন ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে ইসি ইসরায়েলে নির্বাচন: ৬০ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, এগিয়ে নেতানিয়াহুর দল খাদ্যে পুষ্টি উপাদান যুক্ত করতে দ্রুত আইন প্রণয়নের তাগিদ প্রতিমন্ত্রীর ক্রসফায়ার মন্তব্যে কোণঠাসা আইজিপি, আলোচনায় ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ডাম্প ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী

চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণ: মা-ছেলের পর চলে গেলেন চাচাও


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ সময় : ২:৩৮ পিএম

চট্টগ্রামের হালিশহরে ভয়াবহ গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় মা-ছেলের মৃত্যুর পর এবার মারা গেলেন চাচাও। এ নিয়ে দগ্ধদের মধ্যে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিনজনে। সোমবার ভোরে হালিশহরের একটি বাসায় বিস্ফোরণের ঘটনায় একই পরিবারের ৯ জন দগ্ধ হন। গুরুতর অবস্থায় তাদের ঢাকায় নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একে একে তিনজনের মৃত্যু হয়।

চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা আনার পথে সোমবার রাতেই মারা যান ৪০ বছর বয়সী নুরজাহান আক্তার রানী। মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে মারা যান তার ১৬ বছর বয়সী ছেলে শাওন। পরে মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে ৪০ বছর বয়সী সামির আহমেদের মৃত্যু হয় বলে জানান জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট-এর সহকারী অধ্যাপক শাওন বিন রহমান।

শরীরে ৪৫ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ছিলেন সামির। তিনি শাওনের চাচা। বর্তমানে দগ্ধ ছয়জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে। হালিশহর এইচ ব্লকের ‘হালিমা মঞ্জিল’ নামের ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের পরপরই আগুন ধরে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের পর শরীরে আগুন নিয়ে বাসিন্দারা একে একে বাইরে বের হয়ে আসেন। সেহেরি শেষ হওয়ার আগ মুহূর্তে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিন শিশুসহ ৯ জন দগ্ধ হন। নিহত রানী, শাওন ও সামির ছাড়া দগ্ধ অন্যরা হলেন—রানীর স্বামী সাখাওয়াত (৪৬), তার আরেক সন্তান উম্মে আইমান স্নিগ্ধা (১০), সাখাওয়াতের ছোট ভাই সামিরের স্ত্রী আশুরা আক্তার পাখি (৩০), তাদের দুই সন্তান আয়েশা (৪) ও ফারহান আহমেদ আনাছ (৬) এবং সাখাওয়াতের আরেক ভাই শিপন হোসাইন (৩১)।

চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, আশুরা আক্তার পাখি ও সাখাওয়াতের শরীর শতভাগ দগ্ধ হয়েছে। এছাড়া শিপনের শরীরের ৮০ শতাংশ, আয়েশার ৪৫ শতাংশ, আইমানের ৩৮ শতাংশ এবং আনাছের ৩০ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাদের সবার অবস্থাই সংকটাপন্ন।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে তদন্ত চলছে। স্থানীয়রা জানান, বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং মুহূর্তেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু ও অন্যদের সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকা নিয়ে স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতাল প্রাঙ্গণ ভারী হয়ে উঠেছে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর