বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় দায়ের হওয়া চারটি হত্যা মামলাসহ মোট পাঁচ মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার কাজলের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে আইভীর পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেন। তার সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট হৃদয় রহমান। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ মামলায় জামিন মঞ্জুর করেন।
এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পোশাকশ্রমিক মিনারুল হত্যা মামলাসহ পাঁচটি মামলায় গত নভেম্বর মাসে হাইকোর্ট আইভীকে জামিন দিয়েছিলেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পর আপিল বিভাগ ওই পাঁচ মামলায় দেওয়া জামিন স্থগিত করেন। এর পরপরই নতুন করে তাকে পাঁচ মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হয়।
গত বছরের মে মাসে মিনারুল হত্যা মামলায় আইভীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছিলেন আদালত। পরবর্তী সময়ে মামলাগুলোর কার্যক্রম চলমান অবস্থায় পুনরায় জামিন চেয়ে আবেদন করা হলে বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট তা মঞ্জুর করেন।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে আদমজী এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন পোশাকশ্রমিক মিনারুল ইসলাম। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে শহরের খানপুরে অবস্থিত ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট নারায়ণগঞ্জ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরদিন গ্রামের বাড়িতে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
ঘটনার দুই মাস পর, ২৩ সেপ্টেম্বর নিহত মিনারুলের ভাই নাজমুল হক বাদী হয়ে শেখ হাসিনাসহ ১৩২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০০ জনকে আসামি করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় এজাহারভুক্ত ১২ নম্বর আসামি করা হয় সেলিনা হায়াৎ আইভীকে। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা দায়ের হয়, যার মধ্যে চারটি হত্যা মামলা রয়েছে।
আইনজীবীরা আদালতে যুক্তি উপস্থাপন করে বলেন, আইভী দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং তিনি তদন্তে সহযোগিতা করছেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে মামলার গুরুত্ব তুলে ধরে শুনানি করে।
বৃহস্পতিবারের আদেশে হাইকোর্ট পাঁচ মামলায় আইভীকে জামিন দেন। এর ফলে তার মুক্তির পথে আইনি বাধা অনেকটাই কমল বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন। তবে মামলাগুলোর বিচারিক কার্যক্রম নিম্ন আদালতে চলমান থাকবে।
আইনজীবীরা জানান, জামিন মানেই মামলা থেকে অব্যাহতি নয়; বরং বিচার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত শর্তসাপেক্ষে মুক্ত থাকার সুযোগ। এখন মামলাগুলোর পরবর্তী তারিখে সাক্ষ্যগ্রহণ ও অন্যান্য কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
উল্লেখ্য, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন ঘিরে দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। সেসব মামলার আইনি প্রক্রিয়া এখনো চলমান রয়েছে।