ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অধিকাংশ পুলিশ সদস্য আগের ইউনিফর্মের পক্ষে


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৫ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৩:৩৪ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

বাংলাদেশ পুলিশের অধিকাংশ সদস্য আগের পোশাকে ফিরে যেতে চাইছেন। পুলিশের নতুন লৌহ রঙের (আয়রন শার্ট) শার্ট এবং কফি (শেল) রঙের প্যান্টের পরিবর্তে গাঢ় নীল রঙের (নেভি ব্লু শার্ট-প্যান্ট) পোশাকের পক্ষে মত দিয়েছেন ১ লাখ ৪ হাজার ৯১৩ জন পুলিশ সদস্য। অন্যদিকে মাত্র ৯১১ জন পুলিশ সদস্য নতুন পোশাক পরতে চান।

পুলিশ সদর দপ্তর বুধবার (৪ মার্চ) এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনীতে মোট ২ লাখ ১২ হাজার সদস্য রয়েছেন। দেশের ৬৪ জেলার পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে সোমবার ও মঙ্গলবার কল্যাণ প্যারেড আয়োজন করা হয়। এতে পুলিশ সদর দপ্তর, রেঞ্জ পুলিশ এবং জেলা পুলিশের সদস্যসহ মোট ১ লাখ ৮ হাজার ৬৪১ জন অংশ নেন। তাদের কাছে লিখিত ফর্মে পোশাক সংক্রান্ত মতামত নেওয়া হয়। ফর্মগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ৯৬.৫৭ শতাংশ সদস্য পুরোনো পোশাকের পক্ষে এবং ২.৫৯ শতাংশ সদস্য নতুন পোশাক পছন্দ করেছেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করলে পুলিশের পোশাকের বিষয়টি পুনরায় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে ডিএমপি সদর দপ্তরে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, পুলিশ বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে পোশাক পরিবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, পোশাক পরিবর্তনের আগে এটি পুলিশ সদস্যদের মানসিক অবস্থার ওপর কী প্রভাব ফেলবে তা বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (BPSSA) গত ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত বিবৃতিতে পুলিশের পোশাকের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে। ২০০৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি প্রজ্ঞাপন এবং ১০ ফেব্রুয়ারি গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে তৎকালীন সরকার দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে পুলিশ ইউনিফর্ম নির্ধারণ করেছিল। প্রজ্ঞাপনে আবহাওয়া, দিনে ও রাতে দায়িত্ব পালনের সুবিধা, দৃশ্যমানতা, সদস্যদের গায়ের রঙ এবং অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে সাদৃশ্য না হওয়া বিবেচনা করা হয়েছিল।

বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, অন্তর্বর্তী সরকার যে নতুন পোশাক নির্বাচন করেছে, সেখানে পুলিশ সদস্যদের মতামত, আবহাওয়া এবং গায়ের রঙ উপেক্ষা করা হয়েছে। নতুন ইউনিফর্মটি অন্যান্য সংস্থার পোশাকের সঙ্গে হুবহু সাদৃশ্যযুক্ত হওয়ায় মাঠপর্যায়ে পুলিশ সদস্যদের সনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই অধিকাংশ সদস্য নতুন পোশাকের পরিবর্তন তাড়াহুড়ো করে গ্রহণ করতে চাচ্ছেন না।

BPSSA সরকারকে অনুরোধ জানিয়েছে, পোশাক পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হোক এবং পুলিশ সদস্যদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হোক। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুলিশ বাহিনীর মানসিক স্থিতিশীলতা এবং দায়িত্ব পালনে কার্যকারিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

পুলিশ সদস্যদের আগ্রহ ও মতামতের ওপর ভিত্তি করে সরকারের পদক্ষেপ কত দ্রুত বাস্তবায়িত হবে, তা আগামী সময়ে পরিষ্কার হবে। তবে পরিষ্কার যে, অধিকাংশ পুলিশ সদস্য আগের নেভি ব্লু শার্ট-প্যান্ট এবং মহানগর অঞ্চলে সবুজ শার্ট ও গাঢ় প্যান্টের পক্ষে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর