ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১০ কিমি যানজট শিক্ষা বোর্ডভিত্তিক এইচএসসি ফল: পাসের হারে বড় ব্যবধান হারুন অর রশীদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করল সরকার বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আবারও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ বিরোধীদলের লং মার্চের কোনো যৌক্তিকতা নেই: রুহুল কবির রিজভী মিরপুর টেস্টে চার দিনেই বাংলাদেশের বড় হার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় ৮ উইকেটে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফ হত্যা: দীপ ৪ দিনের রিমান্ডে সৌদিতে আগুনে নিহত ৭ বাংলাদেশির লাশ দেশে পৌঁছেছে ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫১.৪৪%, সামান্য কমলো সাফল্য ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

বাগেরহাটে পূবালী ব্যাংকের লকারে রাখা গ্রাহকের ২শ ভরি স্বর্ণ নেই


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৫ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৯:০৩ পিএম

বাগেরহাটে পূবালী ব্যাংকের একটি লকার থেকে গ্রাহকের প্রায় ২শ ভরি স্বর্ণালঙ্কার খোয়া যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, বাগেরহাটের বাসিন্দা সুমন কুমার দাস নামের এক গ্রাহক বুধবার (৪ মার্চ) পূবালী ব্যাংক, বাগেরহাট শাখায় গিয়ে লকারে রাখা স্বর্ণালঙ্কার না পেয়ে বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করলে তদন্ত শুরু হয়।

বৃহস্পতিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মোহাম্মাদ হাচান চৌধুরী, পিবিআই পুলিশ সুপার মো. আল মামুনসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তারা কয়েক ঘণ্টা ধরে ব্যাংকের ভল্ট ও লকার সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করেন। বিকেল পর্যন্ত ব্যাংকের নথিপত্র, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করা হয়।

ভুক্তভোগী গ্রাহক সুমন কুমার দাস অভিযোগ করে জানান, গত বছরের ১৫ অক্টোবর তিনি পূবালী ব্যাংক, বাগেরহাট শাখার একটি লকারে পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনের প্রায় ২০০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার সংরক্ষণ করেন। পারিবারিক একটি অনুষ্ঠানের জন্য স্বর্ণালঙ্কার নেওয়ার উদ্দেশ্যে বুধবার ব্যাংকে গিয়ে তিনি লকার খুলতে চান। কিন্তু লকার খুলে দেখেন ভেতরে রাখা স্বর্ণালঙ্কার নেই।

তিনি বলেন, “লকারে শুধু আমার নয়, আত্মীয়স্বজনসহ পরিবারের সবার স্বর্ণালঙ্কার রাখা ছিল। হঠাৎ করে এত বড় অঙ্কের স্বর্ণ হারিয়ে যাওয়ায় আমরা চরম সংকটে পড়ে গেছি। বিষয়টি সঠিকভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাচ্ছি।”

ঘটনার পরপরই ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন পূবালী ব্যাংকের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মো. মনিরুল আমিন। তিনি বলেন, গ্রাহকের অভিযোগ পাওয়ার পরই পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের ব্যাংকে এ ধরনের ঘটনা এই প্রথম ঘটেছে। লকার ব্যবস্থাপনায় গ্রাহকের নির্দিষ্ট অংশের চাবি গ্রাহকের কাছেই থাকে। সেই অংশের চাবি ব্যাংকের কাছে থাকে না। লকার ব্যবহারের ক্ষেত্রে গ্রাহক কী ধরনের সম্পদ রাখছেন তা সাধারণত ঘোষণা করা হয় না। তাই পুরো বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা হবে।”

এ বিষয়ে বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শামীম হোসেন বলেন, ব্যাংকের লকার থেকে স্বর্ণালঙ্কার খোয়া যাওয়ার অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা এবং দায়ীদের সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।

এদিকে এই ঘটনার মাত্র দুদিন আগে একই ভবনে অবস্থিত নগদ ডিস্টিবিউশন হাউজ থেকে প্রায় ৩৩ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। অভিযোগ রয়েছে, ওই প্রতিষ্ঠানের হিসাবরক্ষক মো. মনিরুজ্জামন টাকা নিয়ে পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় বাগেরহাট সদর মডেল থানায় বুধবার একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং অভিযুক্ত মনিরুজ্জামানকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

একই ভবনে স্বর্ণালঙ্কার খোয়া যাওয়া এবং নগদ অর্থ আত্মসাতের দুটি ঘটনা ঘটায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


এ সম্পর্কিত আরো খবর