ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে টানা আন্দোলনে নেমেছেন পোশাক শ্রমিকরা। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেল থেকে পুলিশ ও শ্রমিকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ শুরু হয়। সংঘর্ষের ফলে মহাসড়কটিতে দীর্ঘ ৫ ঘণ্টা ধরে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে, যার প্রভাবে উভয় পাশে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজার হাজার সাধারণ যাত্রী ও দূরপাল্লার যানবাহনের চালকরা।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে কালিয়াকৈর উপজেলার পল্লীবিদ্যুৎ এলাকার বেশ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। আন্দোলনের একপর্যায়ে তাঁরা মহাসড়কে মাটিভর্তি বস্তা, বাঁশ ও কাঠে আগুন জ্বালিয়ে দেন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে নগরীর কোনাবাড়ী থেকে চন্দ্রা পর্যন্ত অন্তত ১৫টি শিল্পকারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। পুলিশ ও শিল্প পুলিশ মহাসড়ক থেকে শ্রমিকদের সরে যাওয়ার অনুরোধ জানালেও তাঁরা তা প্রত্যাখ্যান করেন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস (টিয়ারশেল) ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়। এ সময় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশের একটি গাড়িসহ কয়েকটি অন্যান্য যানবাহন ভাঙচুর করেন। পরবর্তীতে এপিসি (APC) কার ও অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা অব্যাহত রাখেন। বর্তমানে কালিয়াকৈরের আনসার একাডেমি, সফিপুর ও পল্লীবিদ্যুৎসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় চরম থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গাজীপুর শিল্প পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, জনমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশ সচেষ্ট রয়েছে এবং মহাসড়কে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে শ্রমিক ও সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা চালানো হচ্ছে।