ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

লন্ডন থেকে হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম প্রত্যাহার


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৮ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৬:০৩ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার আবিদা ইসলামকে সরকারি সিদ্ধান্তক্রমে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই তথ্য সাংবাদিকদের জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর।

শনিবার (৭ মার্চ) রাতে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা কমনওয়েলথের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে লন্ডন পৌঁছান। বৈঠকের আগে হিথ্রো বিমানবন্দরে তিনি স্থানীয় বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আবিদা ইসলামের প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, “একটা সুখবর আছে। শোনেন, একটা সুখবর হলো—এই হাইকমিশনারকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। হাইকমিশনার আবিদা ইসলাম হ্যাজ বিন রিমুভড ফ্রম হার পোস্ট।”

এতে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি প্রথমবারের মতো কোনো বাংলাদেশি কূটনীতিককে বিদেশে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হলো। আবিদা ইসলামকে লন্ডনে হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার গত বছরের জানুয়ারি মাসে। তিনি সাইদা মুনা তাসনিমকে স্থলাভিষিক্ত হন।

আবিদা ইসলামের কূটনৈতিক ক্যারিয়ার বহুমাত্রিক। তিনি পূর্বে মেক্সিকো ও দক্ষিণ কোরিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার (প্রধান মিশন) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। এই দীর্ঘ কূটনৈতিক অভিজ্ঞতা তাঁকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে দক্ষ কূটনীতিক হিসেবে পরিচিত করেছে।

প্রত্যাহারের বিষয়টি কূটনৈতিক মহলে চমক সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাইকমিশনারের প্রত্যাহার সাধারণত দেশে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে হয়। এটি বাংলাদেশের কূটনৈতিক নীতির পুনঃমূল্যায়ন বা গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি মিশনে দায়িত্ব বদলের অংশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

লন্ডনে বাংলাদেশের দূতাবাস ও হাইকমিশনের কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনও মন্তব্য করেননি। তবে কূটনৈতিক শৃঙ্খলা ও নিয়ম অনুসারে, পরবর্তী সময়ে নতুন হাইকমিশনার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে।

আবিদা ইসলামের প্রত্যাহারের খবরটি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে এবং বাংলাদেশি কমিউনিটিতে আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের মধ্যে এটি ব্যাপক আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু। স্থানীয় বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে।

কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, এই ধরণের পদক্ষেপ দেশের পররাষ্ট্র নীতি ও কূটনৈতিক কাঠামোর প্রতি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ মিশনগুলোতে দায়িত্ব পরিবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিদেশনীতি আরও সক্রিয় ও সময়োপযোগী হতে পারে।

আবিদা ইসলাম তাঁর দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্য আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে পরিচিত। মেক্সিকো, দক্ষিণ কোরিয়া এবং কলকাতার দায়িত্বকালীন সময়ে তিনি বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক চুক্তি ও আলোচনা সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন।



এ সম্পর্কিত আরো খবর