ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঘরমুখো মানুষের ঢল কমলাপুরে, শিডিউল বিপর্যয় নেই


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৮ মার্চ, ২০২৬ সময় : ১২:৩২ পিএম

ঈদুল ফিতরের আগের দিনগুলোতে বাড়ি ফিরতে মানুষের চাপ কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে চোখে পড়ছে। মঙ্গলবার (১৮ মার্চ) সকাল থেকেই যাত্রীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে, তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো শিডিউল বিপর্যয় হয়নি। নির্ধারিত সময়ে ট্রেনগুলো গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে।

স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, ভেতরে ও বাইরে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি, টিকিট কাউন্টারের সামনে চাপ, প্ল্যাটফর্মে পরিবার-পরিজন নিয়ে অপেক্ষা—সব মিলিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। অনেক যাত্রী নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে এসে স্টেশনে অবস্থান নিয়েছেন, যাতে কোনো ঝামেলা ছাড়াই ট্রেনে উঠতে পারেন।

আজ সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে বেনাপোলগামী রূপসি বাংলা এক্সপ্রেস ঢাকা ছাড়েছে। এরপরে সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে জয়ন্তীকা এক্সপ্রেস ছাড়ছে। এছাড়া নকশিকাঁথা এক্সপ্রেস, অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস, রাজশাহী কমিউটার, নারায়ণগঞ্জ কমিউটার এবং মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসসহ আরও বেশ কয়েকটি কোচ একের পর এক ছেড়ে যাবে।

সিলেটগামী যাত্রী তাসনিম শুভ্রা বলেন, “ঈদের সময় ট্রেন মিস হওয়ার ভয় থাকে। তাই আগে থেকেই স্টেশনে চলে এসেছি। ভিড় অনেক বেশি, তবে পরিবেশ ভালো লাগছে। আশা করি কোনো ঝামেলা ছাড়াই বাড়িতে পৌঁছাতে পারবো।”

খুলনাগামী যাত্রী রবিউল ইসলাম বলেন, “শেষ সময়ে টিকিট পাওয়া কঠিন হয়। তাই আগেই প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। এখনো স্টেশনে আছি। ভিড় থাকলেও সবাই শৃঙ্খলার মধ্যে আছে।”

মোহনগঞ্জগামী যাত্রী আশিকুর রহমান বলেন, “আমার ট্রেন দুপুর ১টায়। তবে বন্ধুরা আগেই এসেছে। তাদের সঙ্গে আড্ডা দিয়ে সময় কাটাচ্ছি, তারপর বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেব।”

বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক এবিএম কামরুজ্জামান বলেন, “এ পর্যন্ত কোনো ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় হয়নি। যাত্রীরা স্বস্তির সঙ্গে ঈদযাত্রা উপভোগ করছেন। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি যাতে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন।”

স্টেশনে দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতাও লক্ষ্য করা গেছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া ট্রেনের সময়সূচি ঠিক রাখতে রেল কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনকে কেন্দ্র করে ঈদযাত্রার শেষ সময়ে রাজধানীর মানুষের এই উচ্ছ্বাস এবং সচেতনতা রেলযাত্রাকে নিরবচ্ছিন্ন রেখেছে। যাত্রীদের সচেতনতার কারণে বড় ধরনের যানজট বা শিডিউল বিভ্রাট এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

এই বছরের ঈদে রাজধানী থেকে দেশের বিভিন্ন জেলায় যাত্রীরা নিরাপদ ও স্বস্তির সঙ্গে পৌঁছাতে পারছেন। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছে, যাত্রীরা এই আয়োজনের সুফল ভোগ করবেন এবং বাড়িতে আনন্দের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে পারবেন।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর