ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১০ কিমি যানজট শিক্ষা বোর্ডভিত্তিক এইচএসসি ফল: পাসের হারে বড় ব্যবধান হারুন অর রশীদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করল সরকার বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আবারও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ বিরোধীদলের লং মার্চের কোনো যৌক্তিকতা নেই: রুহুল কবির রিজভী মিরপুর টেস্টে চার দিনেই বাংলাদেশের বড় হার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় ৮ উইকেটে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফ হত্যা: দীপ ৪ দিনের রিমান্ডে সৌদিতে আগুনে নিহত ৭ বাংলাদেশির লাশ দেশে পৌঁছেছে ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫১.৪৪%, সামান্য কমলো সাফল্য ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

ভোগান্তিতে ঘরমুখী মানুষ

গাজীপুরের চন্দ্রায় ১০–১২ কিলোমিটারজুড়ে যানজট


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৮ মার্চ, ২০২৬ সময় : ১২:৫১ পিএম

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় আজ বুধবার সকাল থেকে যানজটের তীব্রতা লক্ষ্য করা গেছে। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের এই অংশে যানবাহন ধীরগতিতে চলায় প্রায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার এলাকা ভোগান্তিতে ভরা। ঈদের আগে ঘরমুখী মানুষের চাপ বাড়ায় যাত্রী ও চালকদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে তুলনামূলকভাবে যানচাপ থাকলেও বড় ধরনের যানজট দেখা যায়নি। তবে চন্দ্রা বাস টার্মিনাল সংলগ্ন এলাকায় ধীরগতির কারণে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাস চালকরা জানিয়েছেন, আজ দুপুরের পর গাজীপুরের প্রায় ৪০ শতাংশ কারখানা ছুটি দিলে যানচাপ আরও কয়েক গুণ বাড়তে পারে।

গাজীপুরের বিভিন্ন অংশে যানজট বিস্তার দেখা গেছে, বিশেষ করে সফিপুর থেকে চন্দ্রা ত্রিমোড় পর্যন্ত এবং চন্দ্রা-নবীনগর সড়কের বাড়ইপাড়া এলাকা থেকে ত্রিমোড় পর্যন্ত। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকলেও যাত্রী ও যানবাহনের অত্যধিক চাপের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চন্দ্রা ত্রিমোড়, নবীনগর সড়ক ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে যানবাহন কোথাও দীর্ঘ সময় স্থির, কোথাও ধীরগতিতে এগোচ্ছে। ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা অধিকাংশ বাস যাত্রীপূর্ণ হওয়ায় নতুন যাত্রী তোলার সুযোগ কম। ফলে স্থানীয় পরিবহনযান মহাসড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকে। অনেক গাড়ি কারখানা শ্রমিকদের জন্য সংরক্ষিত থাকায় যানজট আরও তীব্র হয়।

আশপাশের এলাকা থেকে ঘরমুখী মানুষের ভিড়ও যানজট বাড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চেষ্টা করছে পরিস্থিতি সামাল দিতে, তবে অতিরিক্ত যানবাহন, সড়কের সংকীর্ণতা ও অগোছালো পার্কিং যানজটের মূল কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে প্রায় পাঁচ হাজার ছোট-বড় কারখানা রয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ২৫ শতাংশ কারখানা বন্ধ ছিল। আজ বুধবার অধিকাংশ কারখানা ছুটি দিচ্ছে এবং আগামীকাল আরও ৮৩৩টি কারখানা বন্ধ হবে। এতে আজ ও আগামীকাল যাত্রীর চাপ আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করা হচ্ছে।

চন্দ্রা উড়ালসড়কের নিচে সেলিম হোসেন নামের এক শ্রমিক জানান, “গতকাল কারখানা বন্ধ ছিল। আজ সকালে রওনা দিয়েছি। যানজট থাকলেও গাড়ি আছে, দরদাম করে যেকোনোভাবে বাড়ি পৌঁছাতে পারব।”

কোনাবাড়ী নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম জানিয়েছেন, যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হচ্ছে। মহাসড়কের পাশে শ্রমিকদের জন্য দাঁড়ানো গাড়ি এবং অসংখ্য যাত্রীজট যানবাহন চলাচলে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে।

সংক্ষেপে, ঈদকে সামনে রেখে গাজীপুরের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় যানজট ১০-১২ কিলোমিটার এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। চলাচল ধীরগতিতে হওয়ায় যাত্রী ও চালকেরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। প্রশাসন পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎপর।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর