ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জাতীয় ঈদগাহে প্রধানমন্ত্রীর নামাজ আদায়


  • আপলোড সময় : শনিবার ২১ মার্চ, ২০২৬ সময় : ১০:১০ এএম

রাজধানীর হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত এ জামাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন।

এই জামাতের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জাতীয় ঈদগাহে একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঈদের প্রধান জামাতে অংশগ্রহণ করলেন তারেক রহমান। এর আগে ১৯৮৯-৯০ সালে কাজী জাফর আহমদ দেশের পুরুষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নারীরাই প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর একসঙ্গে ঈদের প্রধান জামাতে অংশগ্রহণকে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন পর এমন উপস্থিতি রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার দিক থেকেও বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দিন আহমেদ এবং নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনুস প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে জাতীয় ঈদগাহের জামাতে অংশ নিয়েছিলেন। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৯৯০ সালের পর এই প্রথম এ ময়দানে ঈদের নামাজ আদায় করলেন কেউ।

ঈদের প্রধান জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক। দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ শেষে খুতবা প্রদান করা হয়। খুতবায় দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করা হয়। পরে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

ঈদের নামাজকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে মুসল্লিরা জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে জড়ো হতে থাকেন। জামাত শুরুর প্রায় দুই ঘণ্টা আগে থেকেই ঈদগাহে প্রবেশ শুরু হয়। পল্টন মোড়, জাতীয় প্রেস ক্লাব, মৎস্য ভবন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা থেকে সারিবদ্ধভাবে মুসল্লিদের ঈদগাহে প্রবেশ করতে দেখা যায়। ক্রমেই পুরো ঈদগাহ ময়দান ভরে ওঠে মুসল্লিদের পদচারণায়।

ঈদের জামাত নির্বিঘ্ন করতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি প্রবেশপথে মুসল্লিদের তল্লাশি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ব্যবস্থাপনায় ঈদগাহ ময়দান প্রস্তুত করা হয়। মুসল্লিদের জন্য অস্থায়ী কার্পেট, পর্যাপ্ত অযুখানা, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য মেডিকেল টিম রাখা হয়।

নারী মুসল্লিদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ ও নামাজ আদায়ের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়। তাদের জন্য পৃথক অযুখানা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়, যার মধ্যে সাড়ে তিন হাজার নারী মুসল্লির জন্য নির্ধারিত ছিল।

সার্বিক ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার কারণে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ঈদের প্রধান জামাত সম্পন্ন হয়। মুসল্লিরা শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ আদায় করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন।

 আাকশজমিন / আরআর  


এ সম্পর্কিত আরো খবর