ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১০ কিমি যানজট শিক্ষা বোর্ডভিত্তিক এইচএসসি ফল: পাসের হারে বড় ব্যবধান হারুন অর রশীদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করল সরকার বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আবারও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ বিরোধীদলের লং মার্চের কোনো যৌক্তিকতা নেই: রুহুল কবির রিজভী মিরপুর টেস্টে চার দিনেই বাংলাদেশের বড় হার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় ৮ উইকেটে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফ হত্যা: দীপ ৪ দিনের রিমান্ডে সৌদিতে আগুনে নিহত ৭ বাংলাদেশির লাশ দেশে পৌঁছেছে ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫১.৪৪%, সামান্য কমলো সাফল্য ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জাতীয় ঈদগাহে প্রধানমন্ত্রীর নামাজ আদায়


  • আপলোড সময় : শনিবার ২১ মার্চ, ২০২৬ সময় : ১০:১০ এএম

রাজধানীর হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত এ জামাতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একসঙ্গে নামাজ আদায় করেন।

এই জামাতের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জাতীয় ঈদগাহে একজন পুরুষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঈদের প্রধান জামাতে অংশগ্রহণ করলেন তারেক রহমান। এর আগে ১৯৮৯-৯০ সালে কাজী জাফর আহমদ দেশের পুরুষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে নারীরাই প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর একসঙ্গে ঈদের প্রধান জামাতে অংশগ্রহণকে রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন পর এমন উপস্থিতি রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার দিক থেকেও বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ফখরুদ্দিন আহমেদ এবং নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনুস প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে জাতীয় ঈদগাহের জামাতে অংশ নিয়েছিলেন। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১৯৯০ সালের পর এই প্রথম এ ময়দানে ঈদের নামাজ আদায় করলেন কেউ।

ঈদের প্রধান জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক। দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ শেষে খুতবা প্রদান করা হয়। খুতবায় দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনা করা হয়। পরে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

ঈদের নামাজকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে মুসল্লিরা জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে জড়ো হতে থাকেন। জামাত শুরুর প্রায় দুই ঘণ্টা আগে থেকেই ঈদগাহে প্রবেশ শুরু হয়। পল্টন মোড়, জাতীয় প্রেস ক্লাব, মৎস্য ভবন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা থেকে সারিবদ্ধভাবে মুসল্লিদের ঈদগাহে প্রবেশ করতে দেখা যায়। ক্রমেই পুরো ঈদগাহ ময়দান ভরে ওঠে মুসল্লিদের পদচারণায়।

ঈদের জামাত নির্বিঘ্ন করতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন পয়েন্টে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি প্রবেশপথে মুসল্লিদের তল্লাশি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) ব্যবস্থাপনায় ঈদগাহ ময়দান প্রস্তুত করা হয়। মুসল্লিদের জন্য অস্থায়ী কার্পেট, পর্যাপ্ত অযুখানা, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য মেডিকেল টিম রাখা হয়।

নারী মুসল্লিদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ ও নামাজ আদায়ের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়। তাদের জন্য পৃথক অযুখানা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়, যার মধ্যে সাড়ে তিন হাজার নারী মুসল্লির জন্য নির্ধারিত ছিল।

সার্বিক ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার কারণে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ঈদের প্রধান জামাত সম্পন্ন হয়। মুসল্লিরা শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ আদায় করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করেন।

 আাকশজমিন / আরআর  


এ সম্পর্কিত আরো খবর