ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গাজীপুরে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ১০ কিমি যানজট শিক্ষা বোর্ডভিত্তিক এইচএসসি ফল: পাসের হারে বড় ব্যবধান হারুন অর রশীদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করল সরকার বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে আবারও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ বিরোধীদলের লং মার্চের কোনো যৌক্তিকতা নেই: রুহুল কবির রিজভী মিরপুর টেস্টে চার দিনেই বাংলাদেশের বড় হার, ওয়েস্ট ইন্ডিজের জয় ৮ উইকেটে সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা তাহসিফ হত্যা: দীপ ৪ দিনের রিমান্ডে সৌদিতে আগুনে নিহত ৭ বাংলাদেশির লাশ দেশে পৌঁছেছে ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫১.৪৪%, সামান্য কমলো সাফল্য ৩০ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুতের তথ্য দিলেই পুরস্কার


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ২৭ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৮:৩৩ পিএম

দেশে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত প্রতিরোধে সরকার এবার নেয়েছে কড়া পদক্ষেপ। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ঘোষণা করেছে, যে কেউ জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুতের নির্দিষ্ট তথ্য দেবে, তাকে পুরস্কৃত করা হবে। এর ফলে দেশের জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়তা করবে এবং কৃত্রিম তেল সংকট প্রতিরোধে ভূমিকা রাখবে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ইতিমধ্যেই দেশের সব জেলায় ভিজিলেন্স টিম গঠন করা হয়েছে। এই টিমগুলো তেলের সরবরাহ তদারকি করবে, পেট্রল পাম্প এবং ডিপোতে নজরদারি বাড়াবে এবং অবৈধ মজুতদারদের শনাক্ত করবে। সরকার আশা করছে, সচেতন নাগরিকদের সহায়তায় অবৈধ কার্যকলাপ দ্রুত বন্ধ হবে।

গতকাল চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় পরিচালিত অভিযানে প্রায় ৬ হাজার লিটার ডিজেল সহ ৩০টি ড্রাম উদ্ধার করা হয়েছে। এই ধরনের অভিযান দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়মিত চালানো হবে। মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, তেল খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং অবৈধ মজুত প্রতিরোধের জন্য জেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

তেল মজুতদারি রোধে সরকারের পদক্ষেপ কেবল মাঠ পর্যায়ের অভিযানেই সীমাবদ্ধ নয়। সরকারি দপ্তর সচেতন নাগরিকদের অবিলম্বে অভিযোগ জানানোর জন্য উন্মুক্ত রাখছে। যারা নির্ভুল তথ্য প্রদান করবেন, তাদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হবে। এতে কেবল তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য হবে না, বরং সমাজে জ্বালানি খাতের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতাও নিশ্চিত হবে।

অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে অভিযানকে কার্যকর করতে ভিজিলেন্স টিমসহ জেলা প্রশাসন কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে। সকল তেল ডিপো, পেট্রল পাম্প এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের নিবিড় নজরদারির আওতায় রয়েছে। সরকার আশা করছে, এই পদক্ষেপ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করতে চাওয়া ব্যক্তিদের জন্য শক্ত বার্তা হিসেবে কাজ করবে।

প্রতিবছর দেশে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুতের কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষকে বিপদের মধ্যে ফেলে এবং বাজারে মূল্যবৃদ্ধির সৃষ্টি করে। সরকারের নতুন পদক্ষেপের ফলে এটি সীমিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি মন্ত্রণালয় লক্ষ্য রাখছে, যেকোনো অনিয়ম ধরা পড়লে তা দ্রুত সমাধান করা হবে। সেই সঙ্গে সতর্ক নাগরিকদের সহায়তা ও তথ্য প্রদানের মাধ্যমে দেশের জ্বালানি বাজার স্বাভাবিক রাখতে চায় সরকার।

ভিজিলেন্স টিমের কার্যক্রম এবং মাঠপর্যায়ে অভিযান দেশের বিভিন্ন জেলায় অবৈধ মজুতদারদের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে। সরকারের এই পদক্ষেপ সামাজিক সচেতনতা বাড়াবে এবং জনগণকে সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতি বিশ্বাস যোগাবে।

এভাবে দেশের জ্বালানি খাতের স্বচ্ছতা, সরবরাহ শৃঙ্খলা এবং কৃত্রিম সংকট রোধে সরকারের উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখবে। সচেতন নাগরিকরা যদি অংশগ্রহণ করেন, তবে তেলের অবৈধ মজুতদারি দ্রুত কমবে এবং বাজারে তেলের সঠিক সরবরাহ নিশ্চিত হবে।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর