ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ বাতিলের সিদ্ধান্ত


  • আপলোড সময় : রবিবার ২৯ মার্চ, ২০২৬ সময় : ৪:১৩ পিএম

দেশের বিদ্যুৎ গ্রাহকদের দীর্ঘদিনের একটি বড় অভিযোগের অবসান ঘটাতে যাচ্ছে সরকার। প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের মাসিক ভাড়া বা মিটার চার্জ সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। রোববার (২৯ মার্চ ২০২৬) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ ও অস্বস্তি বিরাজ করছিল। বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে এবং শেষ পর্যন্ত গ্রাহকবান্ধব সিদ্ধান্ত হিসেবে এই চার্জ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, খুব দ্রুতই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হবে এবং এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

বর্তমানে দেশে প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারী গ্রাহকদের প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা ‘মিটার ভাড়া’ হিসেবে পরিশোধ করতে হয়। এটি বিদ্যুৎ বিলের পাশাপাশি আলাদাভাবে যুক্ত হয়, যা অনেক গ্রাহকের জন্য বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এই অতিরিক্ত ব্যয় দীর্ঘদিন ধরে একটি বড় অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

গ্রাহকদের প্রধান অভিযোগ ছিল, মিটারের নির্ধারিত মূল্য পরিশোধ হয়ে যাওয়ার পরও কেন বছরের পর বছর ধরে এই ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। অনেকেই মনে করতেন, এটি একটি অযৌক্তিক চার্জ, যা গ্রাহকদের ওপর অপ্রয়োজনীয় আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন ও সচেতন মহল থেকেও এই চার্জ বাতিলের দাবি জানানো হয়।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গ্রাহকদের এই অভিযোগগুলো গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা, ব্যয় কাঠামো এবং গ্রাহকসেবার মান উন্নয়নের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতকে আরও স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় জনগণের আস্থা বাড়বে। দীর্ঘদিনের একটি বিতর্কিত বিষয় সমাধান হওয়ায় গ্রাহকদের সন্তুষ্টিও বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ইতিবাচক ভাবমূর্তিও শক্তিশালী হবে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, প্রিপেইড মিটার চালুর মূল উদ্দেশ্য ছিল বিদ্যুৎ ব্যবহারে স্বচ্ছতা আনা এবং বিল বকেয়া সমস্যা কমানো। এই পদ্ধতিতে গ্রাহকরা আগেই টাকা রিচার্জ করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, ফলে বকেয়া থাকার সুযোগ থাকে না। তবে মিটার ভাড়া যুক্ত হওয়ায় অনেকেই এই সুবিধার পূর্ণ সুফল পাচ্ছিলেন না বলে অভিযোগ ছিল।

সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীদের আর মাসিক মিটার চার্জ দিতে হবে না। এতে করে তাঁদের মাসিক বিদ্যুৎ খরচ কিছুটা হলেও কমে আসবে। যদিও এই সাশ্রয়ের পরিমাণ গ্রাহকভেদে ভিন্ন হতে পারে, তবুও সামগ্রিকভাবে এটি একটি ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গ্রাহকদের একটি বড় অংশ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, এটি অনেকদিনের দাবি পূরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বিশেষ করে যারা দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করেছেন, তারা এটিকে একটি অর্জন হিসেবেও দেখছেন।

তবে কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের আর্থিক ভারসাম্য বজায় রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। কারণ মিটার চার্জ থেকে যে রাজস্ব আসত, তা বন্ধ হয়ে গেলে বিকল্প উৎস খুঁজে বের করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ খাতের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অপচয় রোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, সরকার সবসময় জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়। বিদ্যুৎ খাতে গ্রাহকসেবার মান উন্নয়ন এবং জনগণের আর্থিক চাপ কমানোই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এই সিদ্ধান্ত সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নেরই একটি অংশ।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতেও বিদ্যুৎ খাতকে আধুনিক ও গ্রাহকবান্ধব করতে প্রয়োজনীয় সংস্কার অব্যাহত থাকবে। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, সেবার মান উন্নয়ন এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করা হবে।

সামগ্রিকভাবে বলা যায়, প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ বাতিলের এই সিদ্ধান্ত দেশের বিদ্যুৎ গ্রাহকদের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর। দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। এখন সবার দৃষ্টি এই সিদ্ধান্ত কত দ্রুত কার্যকর হয় এবং এর বাস্তব সুফল কতটা পাওয়া যায়, সে দিকেই।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর