ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বংশালে ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে


  • আপলোড সময় : বুধবার ০১ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৫:৩৯ পিএম

পুরান ঢাকার বংশাল এলাকার কেপি ঘোষ স্ট্রিটের একটি ভবনে লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে ফায়ার সার্ভিস। গভীর রাতে লাগা এই অগ্নিকাণ্ডে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও শেষ পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করতে বেশ সময় লেগেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দিবাগত রাতে হঠাৎ করেই ভবনটিতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজে নামে ফায়ার সার্ভিস। আগুনের তীব্রতা বিবেচনায় প্রথমে দুটি ইউনিট কাজ শুরু করলেও পরে আরও দুটি ইউনিট যোগ করা হয়। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর রাত ৪টা ৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে পুরোপুরি আগুন নির্বাপণ করতে ভোর ৫টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত সময় লাগে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের ডিউটি অফিসার রাশেদ বিন খালেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রাত পৌনে ৩টার দিকে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে দুটি ইউনিট পাঠানো হয়। পরে আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় আরও দুটি ইউনিট যুক্ত করা হয়। প্রায় ৫০ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এরপর ধীরে ধীরে আগুন সম্পূর্ণ নির্বাপণ করা হয়।

প্রাথমিকভাবে এই অগ্নিকাণ্ডে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে আগুনে কতটুকু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, তদন্ত শেষে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আগুন লাগার আগে ভবনটির ভেতর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। বিষয়টি দেখে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। কিছু সময় পর হঠাৎ করেই আগুন দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে। সেই সময় কয়েকটি ছোট বিস্ফোরণের শব্দও শোনা যায় বলে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

অগ্নিকাণ্ডের পরপরই পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত বংশাল এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়, যাতে আগুন আরও ছড়িয়ে না পড়ে এবং উদ্ধারকাজে কোনো ঝুঁকি না থাকে।

স্থানীয়রা আরও জানান, কেপি ঘোষ স্ট্রিটের যে গলিতে ভবনটিতে আগুন লেগেছে সেটি অত্যন্ত সরু। ফলে ফায়ার সার্ভিসের বড় গাড়িগুলো সরাসরি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। বাধ্য হয়ে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২০ থেকে ২৫ গজ দূরে গাড়ি রেখে দীর্ঘ পাইপের মাধ্যমে পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ চালাতে হয়।

এ ধরনের সরু গলি এবং অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় আগুন নেভানোর কাজে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। তবুও সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেই ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছেন।

বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তদন্ত শেষে অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানা যাবে বলে জানানো হয়েছে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর