ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে, জানালেন প্রতিমন্ত্রী


  • আপলোড সময় : শনিবার ০৪ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৩:১২ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো জাতীয় সংসদে আইনে পরিণত হওয়ার পরই দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

শনিবার (০৪ এপ্রিল) সকালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এ সময় সম্প্রতি ১৪ জেলার পরিষদে নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকরাও উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা স্থানীয় সরকার সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো এখন সংসদে আইনে পরিণত করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এসব অধ্যাদেশ আইনে পরিণত হওয়ার পরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন করা হবে। তিনি জানান, নির্বাচন আয়োজনের আগে প্রয়োজনীয় আইনগত কাঠামো নিশ্চিত করা হবে যাতে নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হয়।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের যে বিধান আগে ছিল, সেটি বাতিল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সংসদের মাধ্যমে আইন সংশোধন বা বাতিল করা হবে। আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পথে এগোতে পারবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, শুধু স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশ নয়, আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশও সংসদে আইনে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব আইনি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি চূড়ান্তভাবে সামনে আসবে।

এ সময় তিনি সম্প্রতি জেলা পরিষদগুলোতে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়েও কথা বলেন। মীর শাহে আলম বলেন, ফ্যাসিবাদ সরকারের সময় যারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং একই সঙ্গে জনগণের পাশে থেকে কাজ করেছেন—তাদের মধ্য থেকেই অনেককে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনে যাদের মনোনয়ন দেওয়া সম্ভব হয়নি, তাদের মধ্য থেকেও কিছু ব্যক্তিকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, প্রশাসকদের নিয়োগ দলীয় বিবেচনায় হলেও তাদের কর্মকাণ্ড সম্পূর্ণভাবে জবাবদিহিতার আওতায় থাকবে। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রশাসকদের জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, জেলা পরিষদসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। প্রশাসকদের মাধ্যমে আপাতত প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখা হচ্ছে। তবে দীর্ঘমেয়াদে জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমেই স্থানীয় সরকার পরিচালিত হবে—এটাই সরকারের লক্ষ্য।

তিনি জানান, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী হলে তৃণমূল পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। জনগণের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়া সহজ হবে এবং স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন দ্রুত করা সম্ভব হবে।

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের এই অবস্থান দেশের রাজনৈতিক পরিবেশেও প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে তৃণমূল রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে ধরা হয়।

সব মিলিয়ে সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো আইনে পরিণত হওয়ার পরই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পথ সুগম হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।



এ সম্পর্কিত আরো খবর