ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সারাদেশে ৩ মে থেকে পাওয়া যাবে হামের টিকা


  • আপলোড সময় : রবিবার ০৫ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৭:২৫ পিএম

অনলাইন রিপোর্টার

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় আগামী ৩ মে থেকে সারাদেশে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। এছাড়া ১২ মে থেকে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, ময়মনসিংহ ও বরিশাল জেলায় টিকাদান কার্যক্রম শুরু করা হবে। পরে এটি পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সম্প্রসারিত হবে।

রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে ঢাকার নবাবগঞ্জে হামের টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, “৩ মে থেকে বাকি জেলা ও উপজেলার সব শিশুকে পর্যায়ক্রমে টিকা দেওয়ার মাধ্যমে হামের ঝুঁকি কমানো হবে।” তিনি আরও বলেন, “বর্তমান হামের প্রাদুর্ভাব এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা করোনার মহামারির চেয়েও কম উদ্বেগজনক নয়। তাই দ্রুত ও সুষ্ঠু টিকাদান নিশ্চিত করা আমাদের প্রথম দায়িত্ব।”

আজ থেকে দেশের ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের জন্য বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই উদ্যোগে মিজলস (হাম) প্রতিষেধক টিকা প্রদান করা হচ্ছে। তবে অসুস্থ শিশুদের এই সময় টিকা দেওয়া হচ্ছে না; তাদের কেবল ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে।

প্রথম ধাপে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হওয়া ৩০টি উপজেলা হলো— রাজশাহীর গোদাগাড়ী; ঢাকার নবাবগঞ্জ; মুন্সিগঞ্জের লৌহজং, সদর ও শ্রীনগর; ঝালকাঠির নলছিটি; ময়মনসিংহের ত্রিশাল, সদর ও ফুলপুর; চাঁদপুরের হাইমচর ও সদর; বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ; পাবনার ঈশ্বরদী, সদর, আটঘরিয়া ও বেড়া; নওগাঁর পোরশা; গাজীপুর সদর; নেত্রকোণার আটপাড়া; শরীয়তপুরের জাজিরা; বরগুনা সদর; মাদারীপুর সদর; কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু; চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাগঞ্জ; নাটোর সদর এবং যশোর সদর।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) অনুযায়ী, হামে আক্রান্ত রোগীর ৮২ শতাংশ শিশু পাঁচ বছরের কম বয়সী। তাই টিকা কার্যক্রমে শিশুদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিশুরা হামের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাবে।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, হামের এই টিকাদান কর্মসূচি দেশের শিশুদের স্বাস্থ্য রক্ষার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কার্যক্রমটি সুষ্ঠু ও দ্রুতভাবে পরিচালনা করা হলে শিশু মৃত্যুহার কমানো সম্ভব হবে। এছাড়া পর্যায়ক্রমে সারাদেশে কার্যক্রম সম্প্রসারণ করলে দেশের সব শিশু নিরাপদ হবে।

এই উদ্যোগে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসন, ইউনিসেফ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহযোগিতা রয়েছে। কার্যক্রমের সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা কাজ করছেন।

হামের প্রাদুর্ভাব ও টিকাদান কার্যক্রম দেশের জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জনগণকে সচেতন থাকার পাশাপাশি শিশুদের সময়মতো টিকা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

আকাশজমিন / আরআর 


এ সম্পর্কিত আরো খবর