অনলাইন ডেস্ক:
সদ্য সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ সব উপদেষ্টার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একটি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। হামের টিকা রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার বাইরে নিয়ে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের অভিযোগ তুলে এ নোটিশ জারি করা হয়।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম এ নোটিশ জারি করেন। তিনি নিজেই বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নোটিশে অভিযোগ করা হয়, হামের টিকাদান কার্যক্রমকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার পরিবর্তে বেসরকারি খাতে দেওয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তদন্ত প্রয়োজন রয়েছে। এ কারণে ড. ইউনূসসহ সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ জরুরি। অন্যথায় তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়। এ প্রেক্ষাপটে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আশরাফুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জনস্বার্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। রাষ্ট্রীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ হিসেবে হামের টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এ ধরনের কার্যক্রমে অনিয়ম বা নীতিগত বিচ্যুতি ঘটলে তা জনগণের স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই অভিযোগের যথাযথ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
এদিকে নোটিশ জারির পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, এ ধরনের গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে স্বচ্ছ তদন্ত হওয়া জরুরি। আবার অন্যরা বলছেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর তিনি নির্বাচিত সরকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। তার নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন প্রশাসনিক ও নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, যা নিয়ে বিভিন্ন সময় আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে আইনি নোটিশের বিষয়টি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। একই সঙ্গে এ ধরনের ইস্যুতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।