ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

২৬ দিনে হামের উপসর্গে ১৬৬ শিশুর মৃত্যু


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ০৯ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৭:১৯ পিএম

দেশে হামের প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত মাত্র ২৬ দিনে হাম নিশ্চিত এবং এর উপসর্গ নিয়ে ১৬৬ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে। একই সময়ে আক্রান্ত হয়েছে ২ হাজার ২৪১ জন শিশু।

হাম ও তার উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু ও সংক্রমণ ক্রমেই বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুমের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৬ জন শিশু হাম উপসর্গে এবং ১ জন শিশু নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।

পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত ১৫ মার্চ থেকে ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে নিশ্চিত হামে ২৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া সন্দেহজনক লক্ষণ নিয়ে আরও ১৪৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে আক্রান্ত হয়েছে মোট ২ হাজার ২৪১ জন শিশু, এবং সন্দেহজনক আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৩২০ জন।

ঢাকা বিভাগে আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি। এখানে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫০ শিশু নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত হয়েছে। একই সময়ে সন্দেহজনক লক্ষণ নিয়ে আরও ৫০৪ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। রাজশাহী বিভাগের অবস্থানও ঝুঁকিপূর্ণ।

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ যা দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের জন্য প্রতিরোধ ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন। ভ্যাকসিন প্রয়োগ, পরিচ্ছন্ন পানি সরবরাহ এবং স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে বলা হয়েছে, আক্রান্ত শিশুদের দ্রুত সেবা দেওয়া জরুরি। যথাযথ চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে শিশুদের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। হাসপাতালগুলোতে বিশেষ কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে যাতে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়া যায়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, আক্রান্ত শিশুদের সঙ্গে সংস্পর্শে থাকা অন্য শিশুদেরও পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণ করা উচিত। পরিবারগুলোকে বলা হয়েছে, শিশুরা যদি জ্বর, দান্তে দাগ বা অন্যান্য হাম উপসর্গ দেখায়, সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে আসুন।

শিশু মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ার কারণে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে জরুরি ভিত্তিতে পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। হাসপাতাল ও মেডিকেল সাপ্লাই পর্যাপ্ত করা এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধি করতে হবে। এছাড়া জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো মিলিতভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামগ্রিকভাবে দ্রুত পদক্ষেপ নিলে শিশুদের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।

এই পরিস্থিতি প্রমাণ করে, দেশের শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা আরও জোরদার করতে হবে। পরিবারগুলোকে সচেতন হতে হবে এবং শিশুদের নিয়মিত ভ্যাকসিন নিশ্চিত করতে হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর