ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই মিসাইল ঘাঁটি পুনর্গঠনে ইরান


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ১১:৫৯ এএম

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই আন্ডারগ্রাউন্ড মিসাইল লঞ্চার উদ্ধারে কাজ করছে ইরান, এমন তথ্য উঠে এসেছে সিএনএনের যাচাই করা স্যাটেলাইট ছবিতে। ছবিগুলোতে দেখা যায়, ‘ফ্রন্ট-এন্ড লোডার’ ব্যবহার করে ধসে পড়া টানেলের মুখ থেকে ধ্বংসস্তূপ সরানো হচ্ছে এবং সেগুলো পাশের ডাম্প ট্রাকে স্থানান্তর করা হচ্ছে। এতে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে যে, সাম্প্রতিক হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক অবকাঠামো দ্রুত পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে তেহরান।

সিএনএনের পূর্ববর্তী অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই ঘাঁটির প্রবেশপথে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার সিস্টেম সাময়িকভাবে অচল হয়ে পড়ে। বিশেষভাবে লক্ষ্য করে আঘাত করা হয় টানেলের মুখ, যাতে ভূগর্ভস্থ লঞ্চারগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত হয়। তবে সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা যাচ্ছে, যুদ্ধবিরতির মধ্যেও সেই ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রবেশপথ পরিষ্কার করে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য করার চেষ্টা চলছে।

সূত্রগুলোর বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, প্রায় এক মাস ধরে চলা সংঘাতের পরও ইরানের প্রায় অর্ধেক ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চার অক্ষত রয়েছে বলে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মূল্যায়ন করেছে। তবে প্রবেশপথ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় এসব লঞ্চারের একটি বড় অংশ ভূগর্ভে আটকে থাকতে পারে, যা এখন পুনরায় সচল করার চেষ্টা চলছে।

এই ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনাগুলো ‘মিসাইল সিটি’ নামে পরিচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব ঘাঁটির নকশা এমনভাবে করা হয়েছে যাতে আঘাতের পর দ্রুত মেরামত করে পুনরায় ব্যবহার করা যায়। জেমস মার্টিন সেন্টার ফর ননপ্রোলিফারেশন স্টাডিজ-এর গবেষণা সহযোগী স্যাম লেয়ার বলেন, যুদ্ধবিরতির সময় প্রতিপক্ষের সামরিক সক্ষমতা পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের বাস্তবতা।

স্যাম লেয়ার আরও বলেন, ইরানের সামরিক কৌশলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ব্যবহার করা। তার মতে, প্রথম ধাপে হামলায় ক্ষয়ক্ষতি হলেও পরবর্তী সময়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আবার কার্যক্রম শুরু করা ইরানের দীর্ঘদিনের সামরিক কৌশল। এটি শুধু প্রতিরক্ষা নয়, বরং পাল্টা আক্রমণের সক্ষমতা ধরে রাখার একটি পরিকল্পিত কৌশল।

বিশ্লেষকদের ধারণা, যুদ্ধবিরতি চললেও এই ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতে নতুন উত্তেজনার ইঙ্গিত দিতে পারে। কারণ ভূগর্ভস্থ লঞ্চার পুনরায় সচল হলে তা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নজরদারি ও হামলার কৌশলও নতুনভাবে সাজাতে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ দ্রুতগতিতে চলছে এবং ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে টানেল এলাকা পরিষ্কার করা হচ্ছে। যদিও ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি, তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে এটি প্রতিরক্ষা সক্ষমতা পুনর্গঠনের স্পষ্ট প্রচেষ্টা।

বর্তমান পরিস্থিতিতে যুদ্ধবিরতির মধ্যেও দুই পক্ষের কৌশলগত প্রস্তুতি থেমে নেই বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে ভবিষ্যতে সংঘাত আবারও তীব্র আকার নিতে পারে—এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।


এ সম্পর্কিত আরো খবর