ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

লঞ্চে কন্যাশিশু ফেলে উধাও ‘বাবা’


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৩:৩৬ পিএম

বাউফল প্রতিনিধি 

পটুয়াখালীর বাউফল থেকে ঢাকাগামী একটি লঞ্চে ৬ থেকে ৮ মাস বয়সি এক কন্যাশিশুকে রেখে উধাও হয়েছেন এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে শিশুটির বাবা বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। এ ঘটনায় পুরো লঞ্চে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ঘটনাটি ঘটে বুধবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার কালাইয়া বন্দর লঞ্চঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া এমভি বন্ধন-৫ লঞ্চে।

লঞ্চ কর্তৃপক্ষ ও যাত্রীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিকেল ৪টার দিকে এমভি বন্ধন-৫ লঞ্চটি কালাইয়া বন্দর ঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ধুলিয়া লঞ্চঘাটে নোঙর করলে এক ব্যক্তি একটি কন্যাশিশুকে কোলে নিয়ে লঞ্চে ওঠেন।

ওই ব্যক্তি নিজেকে শিশুটির বাবা পরিচয় দেন এবং যাত্রীদের সঙ্গে বসে থাকেন। তিনি একটি নির্দিষ্ট আসনে বসে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন। পরে তিনি যাত্রীদের জানান, শিশুটির মা আসছেন। এ কথা বলে তিনি লঞ্চ থেকে নেমে যান।

যাওয়ার সময় তিনি পাশের যাত্রীদের কাছে অনুরোধ করেন, যেন তারা শিশুটির খেয়াল রাখেন। তবে লঞ্চটি ধুলিয়া ঘাট ত্যাগ করার পরও শিশুটির মা বা কোনো স্বজন আর লঞ্চে ওঠেননি।

এরপর থেকেই যাত্রীদের মধ্যে সন্দেহ ও উদ্বেগ তৈরি হয়। কিছু সময় পর শিশুটি কান্নাকাটি শুরু করলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয় যে শিশুটিকে ফেলে যাওয়া হয়েছে। পরে যাত্রীরা লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান।

লঞ্চের এক যাত্রী মো. সোহেল বলেন, ‘লোকটি ধুলিয়া ঘাট থেকে লঞ্চে ওঠেন। কিছুক্ষণ পর তিনি বলেন শিশুটির মা আসবেন, এই কথা বলে নেমে যান। এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি।’

লঞ্চ কর্তৃপক্ষ জানায়, শিশুটিকে আপাতত কয়েকজন নারী যাত্রীর তত্ত্বাবধানে রাখা হয় এবং তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। একই সঙ্গে শিশুটির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা শুরু করা হয়।

এমভি বন্ধন-৫ লঞ্চের সুপারভাইজার মো. সজল বলেন, কেন বা কী কারণে ওই ব্যক্তি শিশুটিকে রেখে চলে গেছেন, তা এখনো জানা যায়নি। শিশুটি সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে এবং যাত্রীদের সহায়তায় তার পরিবারের সন্ধান করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় লঞ্চে থাকা যাত্রীরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং অনেকেই শিশুটির দায়িত্ব নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে।

পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার সকালে লঞ্চটি ঢাকার সদরঘাটে পৌঁছালে শিশুটিকে সদরঘাট নৌ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বর্তমানে শিশুটি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে এবং তার পরিচয় শনাক্তে তদন্ত চলছে।

কালাইয়া বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. আল মামুন বলেন, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেনেছেন। ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।

এ ঘটনায় এলাকায় ও নৌযাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। কী কারণে শিশুটিকে লঞ্চে ফেলে রেখে ওই ব্যক্তি উধাও হলেন, তা নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর