ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা, আইন ভাঙলেই স্বয়ংক্রিয় মামলা ফ্যাসিস্টরা স্বাস্থ্যখাতকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান সফরে নতুন ৪টি সমঝোতা স্মারক সই পাশাপাশি চার কবরে চিরনিদ্রায় একই পরিবারের চার সদস্য স্পেনে ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৪, আহত ৮০ ঢামেকে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ধর্মঘট ৭ দিনের জন্য স্থগিত ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ১৮৫ কেন্দ্রের মধ্যে ১১৫টিই অধিক ঝুঁকিপূর্ণ প্রগতির আড়ালে নৈতিক দেউলিয়া সমাজ: বিশ্ব যখন শেখায়, আমরা তখন পিছিয়ে সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ১ রান দূরে সাদমান, প্রথম দিনে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২১৩ স্পেনে দ্রুতগতির দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬

দাকোপে সুপেয় পানির তীব্র হাহাকার, দুর্ভোগে দুই লক্ষাধিক মানুষ


  • আপলোড সময় : শনিবার ১৮ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৭:৫৬ পিএম

খুলনার দাকোপ উপজেলায় শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই সুপেয় পানির চরম সংকট দেখা দিয়েছে। অনাবৃষ্টি এবং পানির প্রাকৃতিক উৎসগুলো শুকিয়ে যাওয়ায় উপজেলাজুড়ে বিশুদ্ধ পানির জন্য এখন তীব্র হাহাকার চলছে। উপজেলার প্রায় দুই লক্ষাধিক মানুষ এক কলস নিরাপদ পানির জন্য মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ কলস নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়নে প্রতি বছরের মতো এবারও তীব্র পানীয় জলের সংকট তৈরি হয়েছে। বিশুদ্ধ পানি বিক্রির দোকান ও ট্যাপ পয়েন্টগুলোতে প্রতিদিন দীর্ঘ লাইন দেখা যাচ্ছে। অনেকেই নৌকা বা ভ্যানে করে দূর-দূরান্ত থেকে পানি সংগ্রহ করছেন। বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় রিভার্স অসমোসিস (আরও) প্লান্ট ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ট্যাংক স্থাপন করা হলেও জনসংখ্যার তুলনায় সেগুলো অপ্রতুল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

দীর্ঘদিন ধরে দাকোপে গভীর নলকূপ সফল না হওয়ায় অগভীর নলকূপই প্রধান ভরসা ছিল। তবে অধিকাংশ নলকূপের পানিতে অতিরিক্ত লবণ, আর্সেনিক ও আয়রন থাকায় সেগুলো পানের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি পুকুর শুকিয়ে যাওয়ায় অধিকাংশ পন্ড স্যান্ড ফিল্টার (পিএসএফ) অকেজো হয়ে পড়েছে। সুপেয় পানির অভাবে নিম্নবিত্ত মানুষ বাধ্য হয়ে পুকুর বা ডোবা-নালার অস্বাস্থ্যকর পানি পান করছেন, ফলে এলাকায় ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

ভুটেমারি এলাকার গৃহবধূ কবিতা মন্ডল ও শিউলি মন্ডল জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে রাস্তার পাশের ট্যাপ থেকে এক কলস পানি সংগ্রহ করতে হয়। সকালে ও বিকেলে দুই-তিন কলস পানি দিয়ে সারা দিনের রান্না ও খাওয়ার কাজ চালাতে হয়। পানি আনতে গিয়ে অনেক সময় সংসারের অন্য কাজও ব্যাহত হয়।

কালাবগী এলাকার রহমত ফকির বলেন, আগের পুকুরটি শুকিয়ে যাওয়ায় এখন দীর্ঘ পথ পেরিয়ে নৌকাযোগে অন্য এলাকা থেকে পানি আনতে হচ্ছে। আমতলা এলাকার শাহনাজ বেগম জানান, মাসে ৩০ টাকা দিয়ে এক দিন অন্তর চার কলস রিফাইন করা পানি পান করেন। ট্যাপ বন্ধ থাকলে বাধ্য হয়ে পুকুরের পানি ফিটকিরি দিয়ে পান করতে হয়।

উপজেলা উপ-সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, সংকট নিরসনে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৬০১টি রেইন ওয়াটার হার্ভেস্টিং ট্যাংক স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে। তবে এসডিএফ-এর অধীনে নির্মিত ৭২টি আরও প্লান্ট সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অকেজো হয়ে আছে। জেলা পরিষদের কিছু পুকুর থাকলেও আইনি জটিলতার কারণে সাধারণ মানুষ সেগুলোর সুবিধা পাচ্ছেন না।

তিনি আরও বলেন, সম্প্রতি কিছু গভীর নলকূপ সফল হয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় আরও গভীর পর্যায়ে টেস্ট টিউবওয়েল স্থাপন করা গেলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হতে পারে। পাশাপাশি চাহিদা মেটাতে আরও ট্যাংক বরাদ্দ প্রয়োজন।

স্থানীয়দের মতে, দাকোপের সুপেয় পানির সংকট এখন মানবিক বিপর্যয়ের পর্যায়ে পৌঁছেছে। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর