ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯০ দিন বাড়ল ডাকসুর সময়সীমা, তফসিল ঘোষণাতেই বাতিল হবে কমিটি হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত ১৩১৬ ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৫৯৩ ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই চীন সফরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি কিম জং উনের ছেলে সন্তান ঘিরে রহস্য, উত্তরসূরি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে তর্ক বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে চীনের ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ডিএসসিসি কার্যালয়ে প্রশাসকের ঝটিকা পরিদর্শন জ্বালানি হামলা বন্ধের প্রস্তাবে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে কী বলল মস্কো? পবিত্র মক্কা, জেদ্দা ও তাইফে জরুরি সতর্কতা জারি করল সৌদি আরব ৭ জনের ফাঁসির রায়ে ককটেল বিস্ফোরণ বড় বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ভোরের ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ঢাকা সহ দেশ


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২১ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৯:৪২ এএম

সাতসকালে ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ভোর ৬টা ২৯ মিনিটে এ কম্পন অনুভূত হয়, যা কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী ছিল। হঠাৎ কম্পনে ঘুম ভেঙে যায় অনেক মানুষের। তবে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ভূমিকম্পের উৎসস্থল ছিল ভারত-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকা। সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ১। এর উৎপত্তিস্থল মিয়ানমারের সাগাইং অঞ্চলের হোমালিন এলাকা, যা ভারতের মণিপুর সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত।

ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৬৬ কিলোমিটার গভীরে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পের গভীরতা বেশি হলে তার কম্পন ভূপৃষ্ঠে তুলনামূলক কম অনুভূত হয়। ফলে মাঝারি মাত্রার এই ভূমিকম্পটি দেশের বিভিন্ন স্থানে মৃদু আকারে অনুভূত হয়েছে।

এদিকে ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি জানিয়েছে, একই সময়ের কাছাকাছি মণিপুর অঞ্চলেও একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভারতীয় সময় ভোর ৫টা ৫৯ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডে সংঘটিত ওই ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ২। এর কেন্দ্রস্থল ছিল কামজং এলাকা এবং গভীরতা ছিল প্রায় ৬২ কিলোমিটার।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ এবং এর গভীরতা ছিল ১০০ দশমিক ৬ কিলোমিটার। বিভিন্ন সংস্থার তথ্যের মধ্যে সামান্য পার্থক্য থাকলেও সার্বিকভাবে এটি একটি মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কম্পন অনুভূত হলেও কোথাও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। অনেকেই ভোরে হঠাৎ কম্পনে আতঙ্কিত হয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। বিশেষ করে বহুতল ভবনে বসবাসকারীদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের কাছাকাছি অবস্থান করায় মাঝেমধ্যে এ ধরনের কম্পন অনুভূত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। ভারত-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকা ভূমিকম্পের জন্য একটি সক্রিয় অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এই অঞ্চলে সৃষ্ট কম্পন প্রায়ই বাংলাদেশে অনুভূত হয়।

তারা আরও জানান, ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কিত না হয়ে সচেতনভাবে নিরাপদ স্থানে অবস্থান নেওয়া জরুরি। ভবনের নিচে খোলা জায়গায় চলে যাওয়া, বৈদ্যুতিক সংযোগ থেকে দূরে থাকা এবং ভারী বস্তু থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া ভবিষ্যতে বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবিলায় নগর পরিকল্পনা ও ভবন নির্মাণে ভূমিকম্প-সহনশীল নকশা অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত মহড়ার মাধ্যমে জনগণকে প্রস্তুত রাখার কথাও বলা হয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর