ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

হুঁশিয়ারিতে নয়, সমঝোতা হবে সমতার ভিত্তিতে: ইরান


মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফছবি: রয়টার্স ও এএফপি

  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২১ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ১০:০০ এএম

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, কোনো ধরনের হুমকি বা চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় যাবে না ইরান। গতকাল সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অবস্থান স্পষ্ট করেন। তাঁর বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কূটনৈতিক অবস্থানকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করা হয়।

গালিবাফ তাঁর পোস্টে বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার টেবিলকে “আত্মসমর্পণের টেবিলে” পরিণত করতে চাইছেন। কিন্তু ইরান কখনোই চাপ বা হুমকির কাছে নতি স্বীকার করবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, যেকোনো ধরনের ভয়ভীতি বা সামরিক-রাজনৈতিক চাপের মাধ্যমে ইরানকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে বাধ্য করা সম্ভব নয়।

এ অবস্থান এমন সময় এসেছে, যখন পাকিস্তান দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও উত্তেজনা কমাতে ইসলামাবাদ কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। তবে এর মধ্যেই ইরানের পক্ষ থেকে এমন কঠোর বার্তা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরান যদি আলোচনায় না বসে তবে তাদের “চরম পরিণতি” ভোগ করতে হবে। তাঁর এই বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। ট্রাম্পের এই হুঁশিয়ারির জবাবে গালিবাফ ইরানের কঠোর অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন এবং জানান, ইরান কোনোভাবেই হুমকির কাছে মাথা নত করবে না।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক উত্তেজনাকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিরোধ এবং পারমাণবিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে সম্পর্ক ইতোমধ্যেই টানাপোড়েনে রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে নতুন করে হুঁশিয়ারি ও পাল্টা বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলছে।

ইরানের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে, তারা আলোচনায় বিশ্বাসী হলেও তা হতে হবে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে, কোনো ধরনের চাপ বা শর্তের ওপর নয়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক অচলাবস্থাকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই


এ সম্পর্কিত আরো খবর