গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে দেড় মাস বয়সী শিশু সন্তানসহ জামিনে মুক্তি পেয়েছেন যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগম। বুধবার (২২ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে তিনি কারাগার থেকে বের হন।
কারা সূত্রে জানা গেছে, তার মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মোছা. কাওয়ালিন নাহার। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের নির্দেশে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
এর আগে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের বিচারক মোস্তাফিজুর রহমান শিল্পী বেগমের জামিন মঞ্জুর করেন। আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর কারা কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন করে তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়।
জানা যায়, বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই শিল্পী বেগম কারাগারে ছিলেন। ওই সময় তার সঙ্গে ছিল দেড় মাস বয়সী শিশু সন্তানও। জামিন পাওয়ার পর মা ও শিশুর একসঙ্গে কারামুক্তি পাওয়ার ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মুক্তির সময় সকাল থেকেই কারাগারের সামনে উপস্থিত হন শিল্পী বেগমের পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠজনরা। তাদের উপস্থিতিতে কারাগার এলাকায় এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন পর প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়ার আনন্দে অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী যথাযথ নিয়ম মেনে তার মুক্তি নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে কারাগার থেকে বের হতে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, রাজধানীর তেজগাঁও থানায় দায়ের করা বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় শিল্পী বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। মামলাটি এখনও বিচারাধীন রয়েছে। তবে আদালত থেকে জামিন পাওয়ায় আপাতত তিনি মুক্ত রয়েছেন।
মুক্তির পর শিল্পী বেগম তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কারাগার এলাকা ত্যাগ করেন এবং নিজ বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, মামলার পরবর্তী কার্যক্রম আদালতে চলমান থাকবে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আইনজীবীদের মতে, জামিন পাওয়ার অর্থ এই নয় যে মামলার কার্যক্রম শেষ হয়েছে; বরং বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন নির্দিষ্ট শর্তে আসামিকে মুক্ত থাকার সুযোগ দেওয়া হয়। এই সময় তাকে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলতে হয়।
এদিকে মা ও শিশুর একসঙ্গে কারামুক্তির ঘটনাটি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শিশুদের কল্যাণ বিবেচনায় আদালতের এমন সিদ্ধান্ত অনেক ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।