ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত ১,০৫৮

হামের উপসর্গে আরও ১১ জনের মৃত্যু


  • আপলোড সময় : শনিবার ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ৪:৩১ পিএম

সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোনো ঘটনা ঘটেনি। শনিবার (২৫ এপ্রিল ২০২৬) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১ হাজার ৫৮ জন সন্দেহভাজন হামরোগী শনাক্ত হয়েছেন। এতে করে সারাদেশে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এই সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে বলে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

হামের উপসর্গে মৃত্যুর ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। এই বিভাগে ৫ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ঢাকা বিভাগে ৩ জন, সিলেট বিভাগে ২ জন এবং রাজশাহী বিভাগে ১ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শিশুদের মধ্যে মৃত্যুহার বেশি হওয়ায় বিষয়টি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ২৫ এপ্রিল সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ৬০৭ জনে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৪৬০ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত করা হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।

এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মিলিয়ে ২০ হাজার ৪৭৫ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৭ হাজার ৮১ জন। যদিও সুস্থতার হার বাড়ছে, তবুও নতুন আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ৪২ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ২০৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এই পরিসংখ্যান দেশের জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে বলে মনে করা হচ্ছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হামের মতো সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি আক্রান্তদের দ্রুত শনাক্তকরণ, আলাদা রাখা এবং চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

তারা আরও বলেন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং সময়মতো টিকা গ্রহণের মাধ্যমে এই রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। সরকারের পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে সম্মিলিতভাবে সচেতনতা বাড়াতে হবে।    


এ সম্পর্কিত আরো খবর