ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬,  ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এইচএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশিত: পাস ৫২.১২% ৭ দফা দাবি না মানলে আরেকটি বিপ্লব হবে: জামায়াত আমীর আজ ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায় সুইজারল্যান্ডে রুমমেটের মরদেহ উদ্ধার, বাংলাদেশি গ্রেপ্তার আজ থেকে শুরু হচ্ছে পোশাক শ্রমিকদের মজুরি বোর্ডের কার্যক্রম মাঝপথেই সফর বাতিল করে দেশে ফিরলেন পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট মাত্র ২৮ পয়েন্টের ব্যবধানে ব্যালন ডি’অর জিতলেন হ্যারি কেইন রাশিয়ার হামলা রুখতে ইউক্রেনকে ৫০০ প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র নেতানিয়াহুকে হটিয়ে বিকল্প সরকার গঠনে আলোচনায় বিরোধীরা তাহসিফের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় বাবার মামলা, বন্ধু দ্বীপ গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন আলোচনার প্রস্তাব পেয়েছে ইরান


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ সময় : ১২:০৮ পিএম

ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নতুন দফার আলোচনার প্রস্তাব পেয়েছে তেহরান। এ তথ্য প্রকাশ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। রাশিয়ায় উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক বৈঠকে অংশ নিয়ে তিনি এই তথ্য জানান, যা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। এই বৈঠক সম্পর্কে মস্কো থেকে আল জাজিরার প্রতিনিধি ইউলিয়া শাপোভালোভা জানান, আরাগচি রুশ কর্মকর্তাদের কাছে নিশ্চিত করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের সঙ্গে নতুন আলোচনার একটি প্রস্তাব দিয়েছে।

বর্তমানে রাশিয়া ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা নিরসনে নিজেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থাপন করছে। সেন্ট পিটার্সবার্গের এই বৈঠকগুলোকে বিশ্লেষকরা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্ভাব্য নতুন আলোচনার ভিত্তি তৈরির অংশ হিসেবে দেখছেন। দীর্ঘদিন ধরে চলা সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে এই প্রস্তাবকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক মোড় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

আব্বাস আরাগচি বৈঠকে বলেন, ইরানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সংঘাত বন্ধ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে এককভাবে নয়, বরং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমেই সমাধান খুঁজতে হবে।

রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মস্কো বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করছে এবং ইরানকে একটি গ্রহণযোগ্য সমঝোতায় পৌঁছাতে সহায়তা করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রাশিয়ার এই ভূমিকা শুধু মধ্যস্থতা নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতার ভারসাম্যে একটি কৌশলগত অবস্থান তৈরির অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

রুশ প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আরাগচির এই বৈঠককে দুই দেশের রাজনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও গভীর করার একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার অবস্থান ইরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক শক্তি হিসেবে কাজ করছে।

অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন সময়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছে যখন হরমুজ প্রণালি ও ইরানি বন্দরে উত্তেজনা বেড়েছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ সৃষ্টি হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন সম্ভবত একটি স্থায়ী চুক্তির মাধ্যমে পারমাণবিক ইস্যু ও সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটাতে চায়। তবে ইরান আলোচনায় বসার আগে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং সার্বভৌম নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দাবি করছে।

রাশিয়ার সক্রিয় কূটনৈতিক ভূমিকা তেহরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। মস্কো শুরু থেকেই ইরানের কৌশলগত অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে আসছে।

সেন্ট পিটার্সবার্গের এই আলোচনার ফলাফল নিয়ে বিশ্বজুড়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। যদি রাশিয়ার মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় আলোচনার টেবিলে বসে, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা কমাতে সহায়ক হতে পারে।

তবে পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক প্রভাব এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো মৌলিক ইস্যুগুলোতে দুই পক্ষ কতটা ছাড় দেবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আব্বাস আরাগচির এই সফর এবং রাশিয়ার কূটনৈতিক তৎপরতা ইঙ্গিত দিচ্ছে, পর্দার আড়ালে একটি বড় সমঝোতার চেষ্টা চলছে, যা ভবিষ্যতে যুদ্ধ ও উত্তেজনার গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর